ফিলিস্তিনে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন?

বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিনে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন? | [How To Donate To Palestine?]

ফিলিস্তিনে চলমান ইসরাইলি সহিংসতা নিয়ে কারও অজানা আছে বলে আমাদের মনে হয় না! মানবতা, মনুষ্যত্ব যেখানে মার খাচ্ছে, সেখানেও বাটপারি থেমে নেই আমাদের বাঙালিদের। ফিলিস্তিনের নাম করে ডোনেশন তুলে সেগুলো মেরে দিচ্ছে বাঙালিরা। এ নিয়ে আমি আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে গত ১৯ মে একটা পোস্ট করি। [পোস্ট লিংক] ইস্যুটা অনেক ঘোলাটে হয়ে উঠাতে, আমি আজকে একই টপিকে আরও একটা পোস্ট করেছি। [পোস্ট লিংক]। ফেসবুক পোস্টে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে, তাই আমি ডিটেইলস তথ্যসহ গুছিয়ে লেখাটাকে আপডেট করে বিজ্ঞান নিউজে শেয়ার করছি! যদিও আমাদের বিজ্ঞান নিউজের নিশের সাথে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ না, তবুও শেয়ার করছি মনুষ্যত্বের জায়গা থেকে, দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে! আমাদের এই পোস্ট পড়ে যদি একজন ব্যক্তিও সঠিক জায়গায় ডোনেশন পাঠায় এবং সেটা যদি একজন মজলুম ফিলিস্তিনিরও কাজে লাগে, তবেই আমাদের এই প্রয়াশ সফল হবে! অনেকেই বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিনের জন্য অর্থ সাহায্য বা ডোনেশন পাঠাতে আগ্রহী; কিন্তু ফিলিস্তিনে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন এই নিয়ে সন্ধিহান! তো, আমাদের পোস্টটা মূলত সেই বিষয়েই- বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিনে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন? নির্ভরযোগ্য উপায়গুলো কী কী? সোর্সগুলো জানার আগে আমাদের বাংলাদেশে চলা ঘোলাটে ডোনেশন হাইপ নিয়ে কিছুটা ক্লিয়ার হওয়া দরকার!

আমার প্রথম ফেসবুক পোস্টে আমিসহ অনেকে বাংলাদেশে অবস্থিত ফিলিস্তিন এম্বেসিতে ডোনেশন সেন্ড করা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলাম! গতকাল দেখলাম, বিকাশ অ্যাপের ডোনেশন সেকশনে ফিলিস্তিন এম্বেসি বাংলাদেশ যোগ হয়েছে! এরপর অনেক মানুষই বিকাশের মাধ্যমে ডোনেট করেছে, এখনো করছে এম্বেসিতে!

এরমধ্যে ওদের সাইটের যে মরাধরা অবস্থা ছিল, সেটা ঠিক করার একটা অপরিপক্ক প্রয়াশ চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পর আমার সন্দেহ আরও শক্ত হয়ে যায়! এরপর আমি অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করেছি; সেগুলোর প্রেক্ষিতে এই পোস্টে আমি আমার ব্যক্তিগত মত এবং একটা সিনারিয়ো শেয়ার করছি! সবাই লেখাটা মন দিয়ে পড়বেন; নেগেটিভলি নেওয়ার দরকার নাই, একটু মাথা খাঁটিয়ে চিন্তা করলেই হবে!

প্রথমত- ফিলিস্তিনে হামলা, খুনাখুনি হচ্ছে অনেক বছর ধরেই! এবার হাইপ উঠেছে ইদের কয়দিন আগে থেকেই। কিন্তু এবার হাইপ উঠার পরও ফিলিস্তিন এম্বেসির ফেসবুক পেজ কিংবা সাইটের কোনো নামগন্ধ ছিল না! আবাবিল পাখির সাহায্য দরকার এমন স্ক্যাম করে, কিছু বঙ্গদেশি বাটপার বিকাশ – রকেটে অনেক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সবার একটু টনক নড়ে! আর এই টনক নড়ার ঘটনার পর, হঠাৎ সিনারিয়োতে এন্ট্রি মারে ঢাকার ফিলিস্তিন এম্বেসি, ফেসবুক পেজে ও তাদের সাইটে একটা ডোনেশনের পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে! সেই পোস্ট আমরা আগেই দেখেছি! পোস্টটা এখন অনেক ইডিট করে ফেলা হয়েছে! সাইটের পোস্টে সাইটটার ডেভেলপার কোম্পানির মালিকের নাম্বার দেওয়া ছিল বিকাশের জন্য, সেটাও মুছে ফেলা হয়েছে!

ফেসবুক পেজটা এতদিন অ্যাক্টিভ না থাকলেও, গত ২-৩ দিনে বাঙালিদের রিচ পেয়ে অনেক অ্যাক্টিভ হয়েছে! পেজে সমস্যা না, মেইন সমস্যা সাইটে! একদিনের মধ্যে সাইটের মরাধরা লুক চেঞ্জের জন্য, ডিজাইন চেঞ্জ করে নতুন থিম / টেমপ্লেট দেওয়া হইছে! ডেভেলপার কোম্পানিও ১ দিনের মধ্যে চেঞ্জ হয়ে গেছে! আগের ডোনেশন পেজটা গায়েব! আর এখনেরটা একটা ১ পেজের পোর্টপোলিও সাইটের ডেমো! কাজটা এতই আনপ্রফেশনাল হয়েছে যে, অনেক ডেমো কন্টেন্টই ডিলেট করা হয়নি এখনো! অ্যাড্রেস আর ওয়েলকাম টেক্সট ছাড়া কোনোকিছুই ঠিক নেই! কোনো পেজ / লিংক / বাটন কাজ করে না! একটা ডোনেশন বাটন লাগানো হয়েছে, ওটাও কাজ করে না! সবচেয়ে মেইন কাজ, এসএসএল সার্টিফিকেট, আগেও ছিল না, এখনো নেই! মানে মানুষের কাছে সাইটের একটা প্রফেশনাল লুক আনার বৃথা চেষ্টা করা হলেও, কাজের কাজ কিচ্ছু হয়নি!

আমার সন্দেহ এই জায়গায়! ফিলিস্তিনে সহিংসতা হচ্ছে অনেক বছর ধরে! এবার হাইপ ওঠেছে রোজার ভেতরেই! কিন্তু এতদিন এম্বেসির হুশ ছিল না; আবাবিল পাখি স্ক্যামের পর তাদের হুশ হলো, ফেসবুক পেজ অ্যাক্টিভ করার, ওয়েবসাইট ডিজাইন করার? এটা ডোনেশন নেওয়ার ট্র্যাপ নয়তো? এখন আবার নতুন যোগ হইছে, বিকাশ ডোনেশন [কারণ বিকাশে এমনে সেন্ড মানি করলে লিমিট বন্ধ হয়ে যায়!]। আপনার কোনো রেজিস্ট্রারড, লিগ্যাল অর্গানাইজেশন থাকলে, বিকাশে লজিক্যাল কারণ দেখিয়ে ডোনেশন ক্যাম্পেইন চালু করা কোনো ব্যাপার না [ফেসবুকেও ডোনেশন ক্যাম্পেইন চালু করা যায়]! অফিশিয়াল কাগজপত্র থাকলে সহজেই অ্যাপ্রুভ হয়ে যায়! আর বাঙালি মুসলিমদের সেন্টি বেচে খাওয়ার মতো লজিক্যাল কারণ আর কিছু হতে পারে না!

এরপর আসি আমার মতো চিন্তা করা অন্য মানুষদের কথাতে! ডোনেশনের হাইপের পাশাপাশি অনেকে নিশ্চয় এম্বেসিতে ডোনেট না করার কারণ দেখিয়ে লেখা একটা ভাইরাল পোস্টও পড়েছেন হয়তো! ওইটার মূলভাব হলো- এম্বেসি আছে মাহমুদ আব্বাসের সরকারের আন্ডারে; এম্বেসিতে যাওয়া ডোনেশনগুলো বাঙালিরা মিলে খেয়ে না ফেলে, ফিলিস্তিনে পাঠালেও সেগুলা যাবে আব্বাসি সরকারের কাছে! ফিলিস্তিনে সবচেয়ে আক্রান্ত ও বেশি সহিংসতার শিকার হলো গাজা। কিন্তু গাজা আছে হামাস সংগঠনের আন্ডারে। হামাস আর আব্বাসি সরকারের কোনো যোগসূত্র নাই! আব্বাসি সরকার ডোনেশনের টাকা নিজেরা না খেয়ে গাজায় পাঠাবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই! [না দেওয়ার পসিবিলিটি বেশি, কারণ এই সরকার গাজার জন্য কিছুই করছে না! তাই এই পোস্টটা আমার কাছে অনেকটুকুই লজিক্যাল]

এর মধ্যে আরও খুঁজে পেলাম; অনেকে ফিলিস্তিনের গাজার লোকাল অনেকের সাথে ফেসবুকে ও বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগ করেছে! তাদের ভাষ্যমতে- আব্বাসি সরকার গাজার অধিবাসীদের জন্য কোনো ডোনেশন কিংবা রিলিফ পাঠাইনি, পাঠাচ্ছে না! [এটা যে ১০০% সত্য, আমি গ্যারান্টি দিতে পারছি না!]

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি আমার ফেসবুক পোস্টে মিস করেছি, অন্য কোনো দেশে অবস্থিত ফিলিস্তিন এম্বেসি ফিলিস্তিনের জন্য ডোনেশন কালেক্ট করছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি! একমাত্র বাংলাদেশেই!

সো, এম্বেসির হঠাৎ করে ডোনেশন নেওয়া শুরু করা; এত ভুংচুং কাহিনি সব কিছুই আমার কাছে ঘোলাটে। তাই আমি পার্সোনালি এম্বেসিতে ডোনেশন পাঠানো প্রেপার করছি না! যারা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিছেন, তারা নিজেদের সৎ নিয়তের জন্য মেন্টালি স্যাটিশফাইড থাকেন!

বাকি যারা আসলেই ফিলিস্তিনিদের সাহায্য পাঠাতে চান, তারা কী করতে পারেন? তারা বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিনে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন? তাদের জন্যই মূলত আমাদের এই পোস্ট!

ফিলিস্তিনের জন্য সাহায্য পাঠানোর সবচেয়ে ভালো উপায় [Best Way To Donate To Palestine]:

এই মুহূর্তে ফিলিস্তিনিদের সাহায্য পাঠানোর জন্য আমাদের খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে রিলায়েবল সোর্স হলো- জাতিসংঘের রিলিফ এন্ড ওয়ার্ক অ্যাজেন্সি [UNRWA]! এরা ফিলিস্তিনিদের জন্য জন্য কাজ করছে, ডোনেশন নিচ্ছে আজকে থেকে না, কয়েক যুগ ধরেই! ওরা রিফিউজিদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা সবকিছুর ব্যবস্থা করে যাচ্ছে! এখনো গাজায় ওদের স্কুলকে অস্থায়ী রিফিউজি ক্যাম্প বানিয়ে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে শেল্টার দিয়ে রেখেছে! আরও একটা বিষয়, ওদের কর্মীদের অধিকাংশই হলো ফিলিস্তিনি! তো, UNRWA তে ডোনেট করলে, সেই টাকা ফিলিস্তিনের যুদ্ধে আক্রান্ত মানুষদের খাদ্য, চিকিৎসায় সরাসরি যাবে সেটা মোটামুটি সিউর! কারণ এরা অলরেডি মেইন ফিল্ডে কাজ করছে! [সকল রিলেটেড লিংক পোস্টের একদম নিচের অংশ দেওয়া হয়েছে!]

তবে ডোনেট করার জন্য আপনার কার্ড কিংবা পেপাল লাগবে! [পেওনিয়ার থাকলে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের থ্রুতেও পাঠাবে পারবেন!] নিজের কার্ড না থাকলে, যাদের কার্ড আছে, তাদের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন! আমি চেয়েছিলাম, কেউ ডোনেট করলে, আমার কার্ড দিয়ে করে দেবো; বাট সেই সিদ্ধান্ত আপাতত অফ! কারণ- ১. এমাসের পর মানে আর ১০ দিন পর আমার কার্ড এক্সপায়ার হয়ে যাবে! ২. বাঙালিদের ওপর আমার আর বিশ্বাস নেই; ভালো কাজ করতে গিয়ে নিজে ঝামেলায় পড়তে চাই না!

তো, আপনাদের যাদের নিজের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড আছে কিংবা পেপাল আছে, কিংবা পেওনিয়ার আছে, পার্সোনালি ডোনেট করেন, পরিচিত আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব কেউ ডোনেট করতে চাইলে তাদেরটাও করে দিন!

UNRWA ছাড়াও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক অ্যাজেন্সি Unicef গাজার শিশুদের জন্য ডোনেশন তুলছে! একই পদ্ধতিতে ইউনিসেফেও ডোনেট করতে পারেন চাইলে! এ ছাড়াও ইউকে ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল নিউজপোর্টাল আইনিউজের রিপোর্ট অনুসারে UNRWA ছাড়াও আরও ১১টি চ্যারিটি অর্গানাইজেশন ফিলিস্তিনের জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করছে! রিপোর্টটা সহ সবগুলোর লিংক নিচে দেওয়া হলো!

সকল প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ: 

১। UNRWA Donation Page

২। UNRWA Bank Details For Payoneer Donation

৩। History Of UNRWA

৪। Unicef Donation Page

৫।  iNews Report

৬। Charities Mentioned In iNews Report: 

[এগুলো ছাড়াও বাংলাদেশি কিছু এনজিও ও অর্গানাইজেশন ফিলিস্তিনের জন্য ডোনেশন নিচ্ছে। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে অথেন্টিক মনে হলে, তাদের কাছেও ডোনেশন দিতে পারেন। তবে ওপরেরগুলো সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য!]

ফিলিস্তিনের বাংলাদেশ এম্বেসির ঘোলাটে নাটক থেকে দূরে থাকাটাই ভালো, এটাই আমাদের সাজেশন!

লেখাটা ভালো লাগলে, লজিক্যাল মনে হলে, ফিলিস্তিনি মজলুমদের স্বার্থে শেয়ার করতে পারেন!

[রিলেটেড কীওয়ার্ডস (Just Ignore These): ফিলিস্তিনে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন, How To Donate To Palestine, বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিনে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন, ফিলিস্তিনের জন্য সাহায্য পাঠানোর সবচেয়ে ভালো উপায়, Best Way To Donate To Palestine, how to send donation to palestine, How do I send money to Gaza, Donate To Gaza, Help Palestine Donate Today, Donation For Palestine, Help For Palestine, ফিলিস্তিনের জন্য কীভাবে সাহায্য পাঠাব,]

পাঠকের মন্তব্য:
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:
x