স্থান ও সময়ের শুরু যেখানে!

স্থান ও সময়ের শুরু যেখানে!

সময় বয়ে চলছে। একে কোনোভাবে আটকানো যায় না। অন্য দিকে আমাদের সমগ্র মহাবিশ্ব একটি বিশাল স্থান বা জায়গা, যা প্রতিনিয়ত প্রসারিত হয়ে চলেছে! কিন্ত কোথায়, কবে এবং কীভাবে এই স্থান ও সময়ের শুরু? আজকে আমরা এই প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করব।

স্থান ও সময়ের শুরু:

এখন থেকে পেছোতে থাকলে ঠিক কখন গিয়ে আমরা ঘড়ির কাঁটাকে থামিয়ে দিতে পারব? উত্তর হলো: ১৪শ কোটি বছর আগে। কেন না তার আগে না ছিল স্থান, না ছিল কোনো সময়। ১৪শ কোটি বছর আগে একটি অতিক্ষুদ্র ও অতিঘন বিন্দুতে ঘটে বিগ-ব্যাং নামক বিস্ফোরণ। যাতে তৈরী হয়েছিল প্রচুর শক্তি। এমনকি এই মহাবিশ্ব ও এতে বিদ্যমান সমস্ত গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি, কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাক হোল) ইত্যাদি সবকিছুই এই বিগ-ব্যাংয়ের মাধ্যমে সৃষ্টি। যদিও একদিনে সব সৃষ্টি হয়নি। তবে শুরুটা হয়েছিল এখান থেকেই। আর আমাদের এই স্থান ও সময়ের শুরু কিন্তু সেই বিগ-ব্যাং থেকেই। তার আগে সময়ের অস্তিত্বই ছিল না। ছিল না কোনো স্থানও। মহাবিশ্বের সবকিছুই ১টা ক্ষুদ্র বিন্দুতে ঘনীভূত ছিল। বিগ-ব্যাংয়ের পর থেকেই শুরু হয়েছে সময়।  সুতরাং বিগ-ব্যাং এর আগে কি ছিল এ প্রশ্নটা অবান্তর। কেন না সময়ের বাইরে কিছু ভাবা আদতে সম্ভব নয়।

এবার আশা যাক স্থানে। সব গ্যালাক্সিপুঞ্জ একে অপরের থেকে দূরে সরছে। মানে এদের মাঝখানের জায়গা বাড়ছে বা বিস্তার ঘটছে। আমরা জানি বিগ-ব্যাং ঘটার পর থেকেই এই বিস্তার শুরু হয় যা আজও চলছে। গ্যালাক্সিগুলো একে অপর থেকে যত দূরে যাচ্ছে তত স্থান বাড়ছে বা স্থান তৈরী হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, বেলুনের উপর কয়েকটি ফোটা এঁকে যদি বেলুনটি ফোলানো হয়, মনে হবে ফোলার সাথে সাথে বিন্দুগুলো দূরে সরে যাচ্ছে। আসলে বেলুন বড় হচ্ছে বা স্পেস বাড়ছে। আবার বাতাস বের করলে মনে হবে বিন্দুগুলো কাছাকাছি চলে আসছে। এভাবে আসতে আসতে সব বিন্দু একটি বিন্দুতে মিলে যাওয়া সম্ভব। [এখানে বেলুন হলো আমাদের মহাবিশ্ব, আর বিন্দুগুলো হলো গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, নক্ষত্র ইত্যাদি।] সেই একটি বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটিতেই ঘটেছিল বিগ-ব্যাং। যা থেকে উৎপন্ন হয়েছে আমাদের সময় ও স্থান। যার বিস্তার ঘটেই যাচ্ছে,ঘটেই যাচ্ছে! বিগ-ব্যাংয়ের অনেক ধরনের প্রমাণ আমরা আমাদের চারপাশে পাই। এর মধ্যে একটি হলো, সিএমবি(কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড), এই তরঙ্গ। যা ১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্যের নিউজার্সির বেল ল্যাবেরটরিতে উইলসন ও পেঞ্জিয়া নামক বিজ্ঞানী প্রথম আবিষ্কার করেন। তারা ওই ল্যাবের চোঙা আকৃতির হর্ন অ্যান্টেনায় এ তরঙ্গ প্রথম ধরতে পারেন। যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও উত্তাপ মেপে প্রমাণ পাওয়া যায়, এই তরঙ্গ ১৪শ কোটি বছর ধরে বিগ-ব্যাংয়ের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। এ ছাড়া হাইড্রোজেন ও হিলয়ামের অনুপাতসহ আরও অনেক প্রমান পাওয়া যায় বিগ-ব্যাং তত্ত্বের। সুতরাং বিগ-ব্যাং নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেমন বোকামি, তেমনি সময় ও স্থান নিয়েও। কেন না এগুলোর উৎপত্তি ও বিগ-ব্যাংই।

আরও পড়ুন: আলোর গতি মাপা হলো কীভাবে?

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: