সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স-ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স

সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স-ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স
 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমার মনে হয় সবাই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স এ ভোগে ।  এ দেশের মানুষের কমন ডায়লগ “তুই জানিস আমি কে ? ” হ্যা বলছিলাম সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স এর কথা । এটা একটা মানসিক দুর্বস্থা! এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা নিজেকে অনেক বড় মনে করে। সেই সবচেয়ে জ্ঞানী, শক্তিশালী। তার উপর কেউ নাই। এ ক্ষেত্রে আমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ এমন লোকও পড়ে। আইনস্টাইন অনেক বড় একজন বিজ্ঞানী ছিলেন । এই কথা সবাই জানে কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা মনে করবেন, বিজ্ঞানী হয়েছে তো কি হয়েছে জান্নাতে তো আর যাবেনা। আমি জান্নাতে যাবো ।

সারা পৃথিবীতে রেসিজমের উদ্ভব কিভাবে জানেন ? এই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স থেকে । সাদারা ভাবতো তারা সুপিরিয়র – তাই কালোরা ক্রিতদাস, জার্মানরা ভাবতো তারা সুপিরিয়র – তাই বিশ্বযুদ্ধ । পৃথিবীর ইতিহাসে যে কয়টি এথনিক আক্রমণ হয়েছে, যে কয়জন মানুষকে শুধুমাত্র গায়ের রং, ধর্মবিশ্বাস অথবা গোত্রভুক্ত হবার কারণে অত্যাচার করা হয়েছে , তার কারণ এটাই । সম্পূর্ণ বিনা কারণে নিজেদের অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা । এবং সেই শ্রেষ্ঠত্বে কোন আচঁড় পড়লে সেটা স্বীকার না করা ।

একটি কাজ করতে পারবে কি না কিংবা নিজের যোগ্যতা কতটুকু আছে এসব বিষয় নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথাই নেই। তার নিজের উপর সম্পূর্ণ ভরসা আছে যে, সে যা করবে তা ঠিকই করবে। পরবর্তীতে কোনো কাজ ভুল করে ফেলার পরও সেই ব্যক্তি নিজের দোষ মেনে নিতে নারাজ।সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স

 

সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সের লক্ষণ

১) অহংকার: একজন ব্যক্তি এই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকলে অন্যদেরকে নিজের তুলনায় কম যোগ্য মনে করে। তার মধ্যে অতিরিক্ত অহংকারের বিষয়টি কাজ করে।

২) সহানুভূতির অভাব: যাদের মধ্যে নিজেকে শ্রেয় ভাবার মানসিকতা থাকে তারা অন্যদের দুঃখে শরীক হতে পারে না। অন্যদের কষ্ট বা বিপদের কথা শুনেও তাদের মধ্যে কোনো অনুভূতিই কাজ করে না।

৩) অন্যের মতামতকে পাত্তা না দেওয়া: সুপিরিয়র ব্যক্তি সব বিষয়ে (এ সম্পর্কে ধারণা থাকুক বা না থাকুক) তাদের ‘অনাবশ্যক’ মতামত দেন। নিজেদের কথার সঠিক কোনো যুক্তি আছে কি না তা খতিয়ে দেখার চেষ্টাই করেন না। অন্যরা কী বলছে বা অন্যদের মতামত কী তা নিয়ে কোনো ভ্রূক্ষেপও নেই এই কমপ্লেক্সে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে।

৪) অস্থিরতা: সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে আক্রান্ত হলে ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে সবসময় অস্থির ও অধৈর্য থাকার বিষয়গুলো কাজ করে। প্রতি মুহূর্তে তাদের মস্তিষ্কে কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়, যার ফলে তারা তাদের প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশে অক্ষম হয়।

এবার আসা যাক ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স এ । এতোক্ষণ যা দেখলেন তার উলটো । এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা নিজেকে খুবই তুচ্ছ মনে করে। আত্মবিশ্বাসের সাথে কোন কাজ করতে পারেনা। মনে মনে ভাবে আমি পারবোনা। সব সময় নিজের থেকে বড় কারোর সাথে তুলনা করে নিজেকে অনেক ছোট মনে করে ।

সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স
                                                                                                     image source: /www.unk.com

 সাধারণত দু’ধরনের ইনফিরিওরিটি দেখা যায়।

প্রথমত, তারা জানেন তারা অনেক যোগ্য ও দক্ষ, কিন্তু কখনোই নিজের তাগিদে সেগুলোকে ভালো করে কাজে লাগাতে চান না। একধরনের অনীহা কাজ করে সবসময়ই। তারা ‘পারে কিন্তু করে না’ দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান পরিচিতদের মধ্যে।

অন্যরা যতই তাদের কাজের মূল্যায়ন করুক, যতই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হোক, এই মানুষগুলো নিজেদেরকে সেগুলোর যোগ্য দাবিদার বলে ভাবতে পারে না, যদিও তারা ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল নিজের সকল গুণ সম্পর্কে!

এদের ধারণাটি অনেকটা এরকম- “আমি জানি আমি সুন্দর, সবাই বলে আমি সুন্দর। কিন্তু আমার নিজেকে কুৎসিত মনে হয়”।

এক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অনুপস্থিতি এবং কিছু করার তাগিদের অভাবই প্রধান। এটি বেশ রহস্যময় ইনফিরিওরিটি, বলা যায় অনেকটা অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত।

দ্বিতীয়ত, তারা জানে যে তারা তুলনামূলক কম যোগ্যতা রাখে কিংবা তাদের মধ্যে অন্যের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম কর্মক্ষমতা রয়েছে। এরা এই বিষয়গুলোকে এতটাই বেশি ভাবে যে অনেকসময়ই এর অতিরঞ্জন করে ফেলে। তিলকে তাল বানানোর প্রবণতা এদের মধ্যে প্রবল। তারা সমস্যা সমাধানের চাইতে সমস্যায় ডুবে থাকাটাই বেছে নেয়। কোনোপ্রকার লড়াইয়ের পূর্বেই হার মেনে নেয়া এদের অনেক পরিচিত একটি বৈশিষ্ট্য। তারা প্রথমেই হার মেনে নেয় এবং পরাজয়ে ভুগতে থাকে। “আমাকে দিয়ে কিছু হবে না” বা “অন্য সবাই আমার চেয়ে সবদিক দিয়েই ভালো”- এ ধরনের ভাবনায় তারা সবসময় নিমজ্জিত থাকে।

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: