মানুষের পাপ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়?

মানুষের পাপ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়?
 

বিজ্ঞান বলে পৃথিবীর ভেতরে যেই ফল্ট লাইন গুলা আছে সেটাই মূলত ভূমিকম্প এর জনয় দায়ী। আপনি যদি বিশ্বাসী হয়ে থাকেন তবে বিশ্বাস করতে পারেন যে, ঈশ্বর ভূমিকম্প দেন । আমরা বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্টা করছি। ‘মানুষের পাপ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়’ এই কথা সম্পূর্ণ যুক্তিহীন, প্রমাণ বিহীন।তবে যারা বিশ্বাস করেন তাদের প্রমাণের প্রয়োজন নেই , এমনিতেই বিশ্বাস করেন।

পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্বীকার হয় নেপাল। ইরান, ইন্দোনেশিয়াসহ প্রায় সবখানেই ভূমিকম্প দেখা যায়। যদি পাপের কারণে ভূমিকম্প হতো তবে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের তালিকার এক নম্বরে চিলি থাকার কথা ছিলোনা। অনেক ভেবে চিন্তেও ফুটবল পাগল চিলিকে ঠিক পৃথিবীর সবচেয়ে পাপিষ্ঠ জাতি হিসেবে মেনে নেয়া যায়না। ইন্দোনেশিয়াকেও না। তালিকায় এর পরে থাকে উত্তর আমেরিকা, জাপান বা রাশিয়া। এদেরকে না হয় পাপিষ্ঠ হিসেবে ধরা যায়। কিন্তু তার পরেই আছে আমাদের বাংলাদেশ! সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পই হোক বা সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি করা ভূমিকম্পই হোক তালিকাটা পুরোই র‍্যান্ডম। তাই পাপের সাথে বা ঈশ্বরের সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে বলে সহজ যুক্তি বা প্রমাণে মনে হয় না ।

মানুষের পাপ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়?
শক্তিশালী ভূমিকম্পের তালিকা src=https://farm2.staticflickr.com/1618/25806823323_b099d28890_z.jpg

আমরা ভূমিকম্প আসলেই প্রার্থনা করি । আসলে প্রার্থনা করে ভূমিকম্প হওয়া রোধ করা সম্ভব ?  বেশীরভাগ ভূমিকম্প ফল্ট লাইন ধরে হয়। আফ্রিকার মাঝখানে বসে হাজার পাপাচার করলেও ভূমিকম্প হবার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। আর জাপান ইন্দোনেশিয়াতে ফল্ট লাইনের উপর বসে প্রার্থনা করলেও সেখানে ভূমিকম্প না হবার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই।

ভূমিকম্পে মসজিস অক্ষত

১৯৯৯ তে তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় অর্ধ-লক্ষ লোক মারা যায় বলে ধারণা করা হয়। উইকি ইসলামে এই ছবিটি দেয়া আছে। সাথে গর্ব করে বলা আছে এতো এতো লোক মরে গেল কিন্তু এই মসজিদের কিছু হল না। মসজিদ পুরাপুরি অক্ষত।

মানুষের পাপ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়?

এ ক্ষেত্রে আপনি Destroyed Mosque লিখে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন , হাজার হাজার মসজিদ পাবেন যেগুলা ভেঙ্গেচুরে চুরমার হয়ে গেছে । ভূমিকম্পে মসজিদ ভেঙে যায় না এই তথ্যটা কোনভাবেই সত্যি হতে পারেনা।

তাহলে ভূমিকম্প কেন হয় ?

ভূমিকম্প হয় মূলত মাটির নিচের শিলা আচমকা ভেঙে যাওয়ার ফলে। হঠাৎ করে এই ভাঙন মাটির তলার প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি করে এবং এটা ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি কেঁপে ওঠে এবং মাটির ওপরে থাকা সবকিছু দুলতে থাকে।

যখন মাটির নিচে দুটি ব্লক অথবা দুটি শিলার মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন সেগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে যায়। তবে এটি খুব ধীরে ধীরে হয় এবং ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো একে অপরের সাথে গায়ে গায়ে লেগে থাকে এবং একে অপরের ওপর চাপ দিতে থাকে।

ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো চাপের মধ্যে থাকায় একসময় সেগুলো ভাঙতে শুরু করে। যখন শিলাগুলো ভেঙে যায়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যে স্থানে শিলাগুলো ভেঙে যায়, সেটাকেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বলা হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনই ভূপৃষ্ঠের ভেতরে কোথাও না কোথাও ভূ-কম্পনের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সবগুলো এত জোরালো নয়। ভূ-কম্পনের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে জমে থাকা শক্তি নির্গত হয়। এই শক্তিকে মাপা হয় রিখটার স্কেলের মাধ্যমে। সাধারণত এই কম্পনের মাত্রা ১ থেকে ১২ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। ৩ থেকে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পন হলে ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয় না। তবে ৫ কিংবা ৬ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেই সেটাকে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে ধরা হয়। রিখটার স্কেলের এক মাত্রা পার্থক্যের অর্থ হচ্ছে আগেরটির চেয়ে পরেরটি ভূত্বকের ভেতর ৩২ গুণ বেশি শক্তিশালী।

যে সব কারণে ভূমিকম্প হয়না

পাপের পরিমাণ বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়না।
বিয়ে বহির্ভূত যৌনসঙ্গম করলে ভূমিকম্প হয় না
মেয়েরা জিনস পড়লে ভূমিকম্প হয় না
নারী ‘উপযুক্ত’ পেষাক পরিধান না করলেও ভূমিকম্প হয়না (আফ্রিকাতে বেশ কিছু ট্রাইব নারী পুরুষ নির্বিশেষে দিব্যি দিগম্বর হয়ে ঘুরে, ওখানে ভূমিকম্প হয়না, হবেও না)
মেকআপ ব্যবহার করলে ভূমিকম্প হয়না।
নারীর চুল ও শরীর ঢেকে না রাখলে ভূমিকম্প হয়না।
মানুষ ব্যাপকহারে ধর্ম-বিমুখ হলেও ভূমিকম্প হয়না।
আনন্দ, রং তামাশা, নাচ গানায় মগ্ন থাকলেও ভূমিকম্প হয়না।
সমাজে ও রাষ্ট্রে অযোগ্য লোক এবং মহিলা নেতৃত্ব থাকলেও ভূমিকম্প হয়না।
মানুষের মধ্যে ভক্তি, শ্রদ্ধা, স্নেহ ভালবাসা কমে গেলেও ভূমিকম্প হয়না।
রাহুল গান্ধী গরুর মাংস খেলেও ভূমিকম্প হয়না।

আর পড়ুনঃ কনডম আবিষ্কার হয় যেভাবে!

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: