মাদকাসক্তি: জীবন যেখানে খেলনা

মাদকাসক্তি: জীবন যেখানে খেলনা
 

বর্তমানে আসক্তি বা addiction কথাটি সবার কাছেই কম বেশি পরিচিত। বিভিন্ন প্রকার আসক্তি বা addiction এর মধ্যে মাদকাসক্তি
বা drug addiction এর ভয়াবহতা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত। এই আসক্তি একটি মানুষের জীবনই শুধু নষ্ট করে না সাথে সাথে প্রভাব ফেলে তার পরিবার
এবং চারপাশের মানুষের জীবনেও।

তাহলে জেনে নেই আসক্তি জিনিসটা কি???

আসক্তি হচ্ছে এক ধরনের টান যা আমরা বার বার অনুভব করি এবং ধীরে ধীরে এর উপর অনিয়ন্ত্রিত ভাবে নির্ভরশীল হয়ে পরি। আর মাদকাসক্তি বা Drug addition বলতে আমরা বুঝি মাদক বা drug এর প্রতি টান অনুভব করা এবং এর উপর অনিয়ন্ত্রিত ভাবে নির্ভরশীল হওয়া।

এখন স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি এই মাদক ???

মাদক বা drug হচ্ছে খুবই প্রয়োজনীয় একটি রাসায়নিক দ্রব্য যা হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করে এবং একই সাথে এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার হাজার হাজার মানুষের জীবন ধ্বংসের কারণ হয় । আমাদের দেশে অধিক প্রচলিত কিছু মাদক দ্রব্য বা drug এর মধ্যে আছে হেরোইন, কোকেন,
ইয়াবা, আফিম ইত্যাদি।

এদের মধ্যে অনেক drug ই হাসপাতাল গুলিতে বিভিন্ন চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয় এবং কিছু কিছু অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত রোগীর শরীরের প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন ধরুন কারো হিপ অথবা কোমরের হাড্ডি ভাঙলো। এখন চিকিৎসক তাকে DIAMORPHINE নামক একটি ঔষধ দিল এক সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য।

এখন এই ডায়ামরফিন ও কিন্তু একপ্রকার হেরোইন। এবং শুধু তাই না, নেশার কাজে ব্যবহৃত যে কোন হেরোইনের থেকে ডায়ামরফিন অধিক
সক্রিয়। তাহলে কি তারা পরবর্তীতে এর প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে???

এমনটা কখনোই হয় না। কিন্তু কেন ???

উত্তরটা পাওয়া যায় Johann Hari’s এর “Casting The Scream : The first and the last Days of the war on drugs’’ বইটিতে উল্লেখ করা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে।যেখানে একটি ইঁদুরকে একটি খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয় এবং দেয়া হয় দুইটি বোতল যার একটিতে ছিল বিশুদ্ধ পানি আর অন্যটিতে drug মিশ্রিত তরল এবং যতো বারই এই পরীক্ষা করা হলো প্রতিবার ইঁদুর drug মিশ্রিত বোতল থেকেই পান করত এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে পতিত হতো।

কিন্তু ১৯৭০ এর দিকে মানষিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রফেসর ডঃ গ্রীস আলেকজান্দ্রা এই পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন। তার মতে ইঁদুরটি ছিল খাঁচায় একাকী এবং হতাশ। বন্ধ খাঁচায় drugs নেয়া ছাড়া তার অন্য কোনো কাজ ছিল না। তাই প্রফেসর আলেকজান্দ্রা এই পরীক্ষাটি একটু ভিন্ন ভাবে করল৷ সে একটি ইঁদুরের সুন্দর পার্ক তৈরি করল যেখানে অনেক ইঁদুর ছিল, বিভিন্ন রঙের বল ছিল এবং সাথে ছিল বিপরীত লিঙ্গের
উপস্থিতি। এরপর সে একই ভাবে ২টি বোতল দিল একটি বিশুদ্ধ পানির এবং অন্যটি drug মিশ্রিত তরল। আশ্চর্যজনক ভাবে ইঁদুরগুলি খুব কমই drug মিশ্রিত তরল পান করত। যার কারন হিসেবে আলেকজান্দ্রা উল্লেখ করেছেন, ইঁদুর গুলির আনন্দে থাকা। তাদের কাছে উপভোগ করার মতো অনেক কাজ ছিল এবং তারা কেউই হতাশ ছিল না। তিনি এখানে আসক্তির প্রধান কারন হিসেবে বলেছেন হতাশা এবং একাকীত্বকে।

শুধুমাত্র মাদক আসক্তিই নয় অন্য যেকোন আসক্তি আমারা দূর করতে পারি সামাজিক মিল- বন্ধন বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং সঠিক কাউন্সেলিং এর
মাধ্যমে। যান্ত্রিক জীবন আর কর্মব্যস্ততার মাঝে নিজের পরিবারের জন্য সময় বের করা উচিত । মূলত কর্মব্যস্ততা ই আমাদের সামাজিক বন্ধন ক্ষুন্ন
করার জন্য দায়ী। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও আমরা আমাদের পরিবার এবং পরিবারের মানুষ গুলির জন্য একটু সময় বের করব এবং বিপদে আপদে তাদের পাশে থাকব।কারণ মাদক মুক্ত সুন্দর সমাজ আমাদের সকলেরই কাম্য।

আরো পড়ূনঃ মহাবিশ্বে আরো ১৮০০ নক্ষত্রের বিস্ফোরণ

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: