ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট কি কোন ক্ষতি করে ?

ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট কি কোন ক্ষতি করে ?
 

একবার এক জাপানিজ দল বাংলাদেশে এসেছিলেন । তারা দেশ ঘুরে একটা কথা বলেছিলেন , ” যদি ঈশ্বর থেকে থাকেন তবে বাংলাদেশে আছে। তা না হলে মানুষ বেঁচে আছে কী করে ? ” ( এটা লোক মুখে শোনা) আদতে বিষয়টা কিন্তু তাই । এতো এতো ভেজাল খেয়েও মানুষ কিভাবে বেঁচে আছে এটা একটা বিস্ময় । তবে কোন প্রভাব যে পড়েনি তা না । খাদ্যে ভেজাল এর ফলে খাদ্যে থাকা পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়েছে । বিশেষ করে ভিটামিন । যার ফলে  ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাজারে এসেছে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট । যে যখন পারছি টুপ করে ভিটামিন খেয়ে নিচ্ছি । আজকের আলোচনা ভিটামিন বেশি খেলে কী প্রভাব পড়তে পারে শরীরে।

ভিটামিন বি

মেশিনে ছাঁটা অতিরিক্ত শোধিত চাল বাদ দিয়ে কম ছাঁটা চালের ভাত আর তার সাথে তুষযুক্ত আটার রুটি পরিমাণমতো খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায়। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে ‘বি-কমপ্লেক্স’ গোষ্ঠীভুক্ত ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খেলে, বিশেষ করে ভিটামিন বি-১ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিতে পারে অ্যালার্জি। আবার অতিরিক্ত ভিটামিন বি-২ বা নিয়াসিন খেলে শুরু হতে পারে মাথাধরা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি।

‪ভিটামিন সি

মানুষ নিজদেহে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে না। তাই আলাদাভাবে এই ভিটামিন সি গ্রহণের প্রয়োজন হয়। এটা জেনে অনেকে ভাবেন যে শুধু খাদ্যের মাধ্যমে নয়, সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও প্রচুর পরিমাণে বাড়তি ভিটামিন সি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ভিটামিন সি-এর দৈনিক প্রয়োজন যা তা ১ টুকরো পেয়ারা বা ১টি লেবু অথবা ২টি টমেটো কিংবা ১টা বড় কমলালেবু থেকেই পাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত সিন্থেটিক ভিটামিন সি খাওয়া আবার স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। কারণ এতে নষ্ট হয়ে যায় শরীরে অন্যান্য ভিটামিন এবং খনিজ লবণের ভারসাম্য।
তাছাড়া সিন্থেটিক ভিটামিন সি দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে দেখা দিতে পারে স্কার্ভি রোগ, মেয়েদের কিছু সমস্যা এবং অনেক ক্ষেত্রে বাতের আক্রমণ। ভিটামিন সি ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে পারে, এমনকি ঠাণ্ডা লেগে গেলে তার স্থায়িত্বের সময়ও কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-তেই এ কাজ সম্ভব। তাই যাদের খাদ্যে ভিটামিন সি-এর মারাত্মক অভাব তারা ওই ১০০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম সিন্থেটিক ভিটামিন সি খেতে পারেন। কিন্তু এজন্য একবারে একগাদা ভিটামিন সি খাওয়া কোনোমতেই ঠিক নয়।

ভিটামিন ই

ভিটামিন ই পাওয়া যায় প্রচলিত সবরকম খাদ্যে। বিশেষ করে শস্যদানা এবং শাকপাতায়। বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে অনেকেই মনে করেন যে, সিন্থেটিক ভিটামিন ই জরা প্রতিরোধ করে এবং হৃদরোগ হতে দেয় না। এগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে যথেষ্টই।প্রকৃতপক্ষে ভিটামিন ই-এর অভাব ঘটেছে এরকম রোগীর খবর নেই বললেই চলে। কারণ একে তো এই ভিটামিন সাধারণ খাদ্যের মধ্যে যথেষ্টই আছে, তাছাড়া আমাদের দেহে এই ভিটামিন সঞ্চিতও থাকতে পারে দীর্ঘদিন ধরে।

আরও পড়ুন্যঃ ফোনে কী করছেন জানালেই ফেসবুকে টাকা ইনকাম

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: