ব্লগিং করে আয় করা কি আসলেই সম্ভব?

ব্লগিং করে আয় করা কি আসলেই সম্ভব?
 

দিন দিন সারা বিশ্বে স্বাধীন মুক্ত পেশা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফ্রিল্যান্সিং। বাংলাদেশও থেমে নেই। একটি জরিপের তথ্য মতে, ফ্রিল্যান্সিং খাতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। প্রতিদিনই নতুন করে দেশের অনেক তরুণ যুক্ত হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং পেশায়। তো, এই ফ্রিল্যান্সিংয়ের অসংখ্য ধরন বা উপায় রয়েছে! ফ্রিল্যান্সিং করতে এসে প্রথমেই ব্লগিং শব্দটা শুনেননি এমন কেউ আছে বলে আমার মনে হয় না!  ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কাজ করে আয়ের কথা উঠলেই শুরুতে চলে আসে ব্লগিং। কারণ ব্লগিং হলো ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয় ও সহজ পেশাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ব্লগিং আসলে কী? ব্লগিং শব্দের উৎপত্তি ব্লগ থেকে। মূলত ব্লগ সাইটে লেখালেখি বা পোস্ট লেখাকেই ব্লগিং বলা হয়! এই ব্লগিং করেই অনেকে নাকি মিলিয়নিয়ার হয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। কিন্তু নতুনদের অনেকের মনেই প্রশ্ন কিংবা সন্দেহ থেকে যায়! আসলেই কি এগুলো সত্যি? ব্লগিং করে কি সত্যিই অনেক টাকা আয় করা যায়?

ব্লগিং করে আয় করা কি আসলেই সম্ভব?

হ্যাঁ, সম্ভব। শতভাগ সম্ভব! বর্তমানে শুধু অন্যান্য দেশেই নয়, বাংলাদেশেও অনেকে ব্লগিং করে আয় করছেন। অনেকেই স্মার্ট ক্যারিয়ার হিসেবে ব্লগিংকে বেছে নিয়ে সফল হয়েছেন। তবে পৃথিবীতে কোনো কাজের সফলতা রাতারাতি আসে না। প্রতিটি সফলতার পেছনে থাকে অনেক দিনের পরিশ্রম, চেষ্টা ও ধৈর্য। ব্লগিং করে সফল হতে চাইলেও, আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে, ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। তবে এটা ঠিক যে, ফ্রিল্যান্সিংয়ের অন্যান্য সেক্টরের চেয়ে ব্লগিং এ সফলতা পাওয়া যায় খুব দ্রুতই। ক্যারিয়ার হিসেবে ব্লগিং শুরু করতে, প্রথমেই আপনাকে লেখালেখিতে পারদর্শী হতে হবে। ব্লগিং করার নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নেই। আপনি যে বিষয় ভালো বুঝেন, যে বিষয় ভালো পারেন, সেই বিষয়েই লেখালেখি শুরু করে দিতে পারেন। এরপর আপনার যেটা লাগবে, তা হলো- একটা সুন্দর সাজানো-গোছানো ব্লগ সাইট। একটি ব্লগ সাইট বানিয়েই আপনি লেখালেখি বা ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন। [যারা নিজেরা ব্লগ সাইট বানাতে পারেন না, তাদের জন্য রয়েছে আমাদের ‘ব্লগ মেকিং প্যাকেজ’। স্বল্প খরচে পূর্ণাঙ্গ ব্লগ সাইট পেতে এক্ষুনি আমাদের প্যাকেজটি অর্ডার করুন।]

এখন ব্লগ সাইটও বানালেন, ব্লগিংও শুরু করলেন; কিন্তু আয় করবেন কীভাবে? ব্লগিং করে আয় করার অসংখ্য উপায় রয়েছে। চলুন তা হলে জেনে নিই ব্লগিং করে আয় করার কিছু জনপ্রিয় উপায় সম্পর্কে।

আরও পড়ুন: নিজের ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে বড় অঙ্কের টাকা আয় করবেন?

ব্লগিং করে আয় করার উপায়গুলো:

  • গুগল অ্যাডসেন্স (বিজ্ঞাপন): অ্যাডসেন্স ও অ্যাডমব মূলত গুগল কোম্পানির বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম। গুগলের বিজ্ঞাপনদাতারা গুগল অ্যাডওয়ার্ড সার্ভিস ব্যবহার করে তাদের পণ্য, সার্ভিস, ওয়েবসাইট, যেকোনো কিছুর অ্যাড দেয়। আর গুগল সেগুলো পাব্লিশারদের মাধ্যমে (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ) প্রকাশ করে। প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে ‘কস্ট পার ক্লিক’ (CPC) ফরমেটে গুগল যে অর্থ পেয়ে থাকে সেটা পাব্লিশারদের সাথে ভাগাভাগি করে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অসংখ্য দেশের মানুষ শুধুমাত্র এই গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তারা কেউ হয়তো ইউটিউবার, কেউ হয়তো ওয়েবসাইটের মালিক, আবার কেউ মোবাইল অ্যাপের মালিক। ইউটিউব ও ওয়েবসাইটে মূলত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় অ্যাডসেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে। আর মোবাইল অ্যাপে অ্যাডমব সার্ভিসের মাধ্যমে। এখন আপনার যদি একটি ব্লগ সাইট থাকে, সেটাতে আপনি অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে গুগলের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে প্রচুর আয় করতে পারবেন।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইনের আরও একটি জনপ্রিয় ইনকাম মাধ্যম! নিজের ব্লগ সাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও প্রচুর আয় করা যায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনাকে অন্যের প্রোডাক্ট ডিরেক্ট বা স্ট্রেইট সেল দিতে হয়, মার্কেটপ্লেস আপনাকে বিক্রির উপর কমিশন দেয়। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলো অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েট। আপনার ব্লগ সাইটে আপনি অ্যামাজন মার্কেটপ্লেসের যেকোনো প্রোডাক্ট সেল করে অ্যাফিলিয়েট আর্নিং করতে পারেন! এ ছাড়াও আলীবাবাসহ আরও বেশকিছু মার্কেটপ্লেসের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম প্রচলিত আছে। অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট সেলের সহজ উপায় হলো রিভিউ ব্লগিং। মানে আপনি আপনার ব্লগে প্রোডাক্টের সুন্দর সুন্দর রিভিউ লিখে ভালো পরিমাণে সেল আনতে পারেন। আর যত বেশি সেল, আপনার তত বেশি আয়।
  • লোকাল অ্যাড (বিজ্ঞাপন): লোকাল অ্যাড বা স্থানীয় বিজ্ঞাপন আপনার ব্লগ সাইট থেকে টাকা আয় করার আরও একটি সহজ উপায়। আপনার ব্লগটি যদি বাংলা কনটেন্টের হয়ে থাকে এবং সাইটে প্রচুর বাংলাদেশি ট্রাফিক থাকে, তবে আপনি স্থানীয় উঠতি কোম্পানির বিজ্ঞাপন আপনার ব্লগ সাইটে শো করিয়ে আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার সেসব কোম্পানির কাছে গিয়ে সরাসরি ডিল করতে হবে। আপনি আপনার ব্লগ সাইটে তাদের ব্যানার লাগিয়ে কিংবা তাদের কোম্পানির রিভিউ পোস্ট লিখে, যেকোনো ভাবে তাদের কোম্পানিকে আপনার ব্লগে হাইলাইট করে একটি ফিক্সড অ্যামাউন্টের টাকা নিতে পারেন!
  • ফেসবুক ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল: ব্লগ সাইটগুলোর জন্য ফেসবুকের একটি ফিচার আছে ‘ফেসবুক ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল’ নামে।  ব্লগ সাইট কিংবা নিউজ পোর্টালগুলো এই ফিচারের মাধ্যমে সরসারি ফেসবুক থেকে আয় করে পারে। এই ফিচারের মাধ্যমে ফেসবুক আপনার সাইটের পোস্টগুলোতে বিজ্ঞাপন দেখায়। ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল থেকে আপনার আয় নির্ভর করবে আপনার সাইটে কত বেশি ফেসবুক ট্রাফিক আছে সেটার উপর। অনেক ব্লগ সাইট বা নিউজ পোর্টাল ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে।
  • স্পন্সার পোস্ট: আপনার ব্লগ সাইট যখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, তখন আপনি টাকার বিনিময়ে আপনার সাইটে স্পন্সার পোস্টও করতে পারবেন। অর্থাৎ ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে অন্যের ব্লগকে, কোম্পানিকে, সার্ভিসকে কিংবা প্রোডাক্টকে প্রোমোট করবেন। এর বিনিময়ে আপনার বেশ ভালো পরিমাণের আয় হবে। 

এগুলো ছিল ব্লগ সাইট থেকে আয় করার বেশ কিছু জনপ্রিয় মাধ্যম। এ ছাড়া আরও উপায় আছে ব্লগিং করে আয় করার। ব্লগিং শুরু করলে আস্তে আস্তে জেনে যাবেন সবকিছুই।

এখন প্রশ্ন হলো: ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

ব্লগিং করে আয় করার নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ নেই! কেউ বেশি করে, আবার কেউ কম। শুরুতে হয়তো আপনার খুবই কম আয় আসবে। কিন্তু ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে পারলে এবং পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে দেখবেন, কয়েক মাস পর থেকে আপনার প্রচুর আয় হচ্ছে। একজন সফল ব্লগারের মাসিক আয় গড়ে ১-৩ লাখ টাকাও হতে পারে।

পরিশেষে বলব, বাংলাদেশে বর্তমানে ধীরে ধীরে ব্লগিং পেশা জনপ্রিয় হচ্ছে। কারণ ডিজিটাল বিপ্লব শুরু হয়েছে, আমাদেরও তাল মেলাতে হবে ডিজিটালাইজেশনের সাথে। অন্যথা ছিটকে পড়তে হবে। যেকোনো দেশেই ব্লগিং ক্যারিয়ারের ফিউচার বেশ ভালো। আপনিও মুক্তভাবে সফল ক্যারিয়ার গড়তে আজই শুরু করে দিতে পারেন ব্লগিং। 

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: