Home » বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার উপায়!
বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার উপায়!

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার উপায়!

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার উপায়— এই কিওয়ার্ডটি নিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে অসংখ্যবার এখন পর্যন্ত সার্চ হয়েছে। আপনি হয়তো সে বিষয়ে খুব বেশি অবগত নন। এ বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এখন ঘরে বসে অনলাইন থেকে কোনো রকম কায়িক পরিশ্রম ছাড়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা সম্ভব হচ্ছে।

নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করার জন্য বর্তমানে মানুষ অনলাইন আয়ের দিকে ঝুঁকছে। অনেকে আবার অনলাইন থেকে আয় করা বিষয়টিকে দ্বিতীয় পেশা হিসেবে নিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক তরুণ-তরুণীরা এখন অনলাইন থেকে আয় এর কথা ভাবছে। কারণ তারা অবসর সময়ে চাইলে অনলাইন সেক্টরকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারে।

➡️ আরও পড়ুন: ব্লগিং করে আয় করা কি আসলেই সম্ভব?

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার বিভিন্ন রকম উপায় রয়েছে। ঘরে বসে যে সব উপায়ে বাংলাদেশ থেকে আয় করা যাবে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো আমাদের আজকের আর্টিকেলে। তো চলুন, জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ থেকে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করার নিশ্চিত উপায়গুলো সম্পর্কে!

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার উপায়

ফ্রিল্যান্সিং

অনলাইন থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম এখন এটি। ফ্রিল্যান্সিং মুক্তপেশা হওয়ায় মানুষ দিনে দিনে এটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে বর্তমানে অনেক টাকা আয় করা যায়। এজন্য তরুণ-তরুণীরা এটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে বর্তমানে বিবেচনা করছে।

অনলাইন জগতে বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে। আপনি তাদের মধ্যে থেকে একটা ভালো মানের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। তো চলুন, এখন আমরা জানি একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য কোন কোন গুণগুলো আমাদের মধ্যে থাকা আবশ্যক:

  • যুগান্তকারী উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন নতুন ধারণা।
  • যেকোনো বিষয়ে দক্ষতা।
  • সমন্বিত পারদর্শিতা।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য আপনাকে কিছু টিপস ও ট্রিকস অনুসরণ করতে হবে। আমাদের দেওয়া টিপসগুলো অনুসরণ করে কাজ করতে পারেন।

প্রথমত, আপনাকে ভালো মানের কোনো কার্যকরী ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিতে হবে। আপনাকে বোঝাতে হবে আপনি অন্যদের চেয়ে আলাদা।

➡️ আরও পড়ুন: নিজের ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে বড় অঙ্কের টাকা আয় করবেন?

দ্বিতীয়ত, এবার আপনাকে নিজের ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে একটা সুন্দর ফ্রিল্যান্সার প্রোফাইল তৈরি করে নিতে হবে। নিজের ব্যক্তিত্ব ও মনোভাব এমন ভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করতে হবে যাতে আপনাকে অদ্বিতীয় মনে হয়।

তৃতীয়ত, আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রেজিস্ট্রেশন করার পর আপনার প্রোফাইলটি পুরোপুরি সম্পূর্ণ করতে হবে। এরপর আপনার দক্ষতা অনুযায়ী মার্কেটপ্লেসে কাজের জন্য অনুসন্ধান চালাতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের যোগ্যতা ও সামর্থ্য বিবেচনা করে বিড করতে হবে। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে শত শত ক্যাটাগরির কাজ রয়েছে। আপনাকে পছন্দমতো যোগ্যতা অনুযায়ী সেটা নির্বাচন করে নিতে হবে।

চতুর্থত, এই ধাপে আপনাকে কাজের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে একটা ভালো প্রজেক্ট সাবমিট করতে হবে। খুব সতর্কতার সাথে প্রফেশনালভাবে প্রজেক্ট কমপ্লিট করতে পারলে আপনি সফল হবেন। ভালো প্রজেক্ট কমপ্লিট করার বিনিময়ে আপনি অবশ্যই পুরস্কৃত হবেন।

পঞ্চমত, আপনি ভালোভাবে কাজটি সম্পন্ন করে ক্লায়েন্টের নিকট সাবমিট করতে পারলে রিওয়ার্ডস পাবেন। আপনার কাজ ভাল লাগলে ক্লায়েন্ট আপনাকে ফাইভ স্টার রিভিউ দেবে। তারা আপনার অন্যান্য দক্ষতাগুলোর তালিকা চাইতে পারে। এজন্য আপনার একটা পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করে রাখা ভালো। কাজের বিনিময় হিসেবে আপনাকে ক্লায়েন্ট অর্থ প্রদান করে থাকবে। তখন সেটি আপনি উত্তোলন করে নিতে পারবেন।

সেরা কিছু ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস এর নাম:

➡️ আরও পড়ুন: ট্রাভেল ব্লগিং করে কীভাবে আয় করবেন?

আর্টিকেল রাইটিং

আর্টিকেল রাইটিং বলতে একসময় মানুষ বুঝত ওয়েবসাইটের জন্য লেখা। কিন্তু সেই ধারণার বর্তমানে পরিবর্তন এসেছে। এখন আপনি চাইলে ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে আর্টিকেল রাইটিং করে প্রচুর পরিমাণ ডলার আয় করতে পারবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ঘরে বসে আর্টিকেল লিখে আয় করা যায়। এমন অনেক সাইট রয়েছে যেগুলো পেমেন্ট বিকাশে দেয়।

আপনি যদি লেখালেখি করতে অনেক বেশি পারদর্শী হন, তবে অনলাইনে লেখালেখি আপনার জন্য সর্বোত্তম হবে। অনলাইনে আর্টিকেল লেখার অনেক ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আর্টিকেল লিখে আয় করা যায়।

আপনি যদি একজন প্রফেশনাল মানের আর্টিকেল রাইটার হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য অনেক পথ খোলা রয়েছে। যেসব উপায় ব্যবহার করে আপনি অনলাইন থেকে ঘরে বসে আয় করতে পারেন। আপনি নিজস্ব ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানেও দক্ষতার সাথে লেখালেখি করে আয় করতে পারবেন। একটা ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ডোমেইন ও হোস্টিং ছাড়া তেমন কিছু লাগে না। আপনার ওয়েবসাইটে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করে গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন।

এছাড়া লেখালেখি করে ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারবেন। তাহলে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে একসাথে বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

➡️ আরও পড়ুন: আপনার কেন একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা প্রয়োজন?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় একটা কার্যকরী মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। আমাদের ভাষা বাংলা বলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা কষ্টসাধ্য। কারণ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য একটা ইংরেজি ওয়েবসাইট প্রয়োজন হয়। যেটা প্রথম অবস্থায় তৈরি করা কঠিন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা একদম বাধ্যতামূলক। কিছু টাকা খরচ করে ডোমেইন-হোস্টিং কিনে আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে। একটা টপিক নির্বাচন করে নিয়মিত সম্পর্কিত টপিকের ওপর আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে।

শুধু আর্টিকেল পাবলিশ করলেই চলবে না। আপনাকে আরও জানতে হবে ওয়েবসাইট এসইও। এসইও করে ওয়েবসাইটে আপনাকে প্রচুর পরিমাণ ট্রাফিক আনতে হবে। যত বেশি ট্রাফিক হবে তত বেশি আয় হবে।

বর্তমানে বেশি কমিশন দেয় এরকম অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট রয়েছে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে মূলত অন্য কোম্পানির পণ্য, সার্ভিস বা সেবা কাস্টমারদের কাছে রেফার করতে হয়! এরপর সেল / লিড থেকে অ্যাফিলিয়েট কমিশন পাওয়া যায়!

কিছু উচ্চ কমিশন দেওয়া অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটের নাম:

➡️ আরও পড়ুন: ওয়েবসাইটের ডোমেইন ও হোস্টিং কী? এগুলো কেন দরকার?

সার্ভে করে আয়

সার্ভে করা বর্তমানে বিশ্বের জনপ্রিয় একটা আয় করার উপায়। এখানে মূলত জনগণের মতামতের ওপর অধিক পরিমাণ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে যারা সার্ভে করার কাজ দেয়। আপনি অনলাইন থেকে সার্ভে করে আয় করতে পারবেন।

অনলাইন থেকে আয় করার সহজ একটা উপায় হলো সার্ভে করে আয়। তবে অবশ্যই এখানে পশ্চিমা বিশ্বের আইপি ব্যবহার করে সার্ভে করতে হবে। এ কাজ ছাড়া এখান থেকে আয় করা একদম অসম্ভব।

তাই সার্ভে করে ইনকাম করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে বিনিয়োগ করে আয় করতে হবে। বিনিয়োগ বলতে, সার্ভের কাজ করার জন্য আপনাকে টাকা দিয়ে আইপি কিনতে হবে! আপনার ইনভেস্টকৃত টাকা অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করে তুলে ফেলতে পারবেন। বিভিন্ন পিটিসি সাইট রয়েছে যারা সার্ভে করার কাজ দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশি আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে এ কাজটি করা সম্ভব না। এজন্য অনলাইনে আপনাকে কোনো একটা কোম্পানির নিকট থেকে ইউরোপ-আমেরিকার আইপি অ্যাড্রেস কিনতে হবে। অনলাইনে বহু ওয়েবসাইট রয়েছে যারা আইপি অ্যাড্রেস বিক্রয় করে থাকে। আপনি ডলারের বিনিময়ে আইপি অ্যাড্রেস অনলাইন থেকে কিনে নিবেন। সার্ভে করে আয় করার জন্য আইপি অ্যাড্রেস কেনা বাধ্যতামূলক।

আইপি কেনা হয়ে গেলে, আপনি কাজ করে ইনকাম শুরু করতে পারবেন। আইপির খরচ একদিন ভালো মতো কাজ করলেই তুলে করে ফেলা সম্ভব। এরপর বাকিটা পুরোটাই প্রফিট!

➡️ আরও পড়ুন: ইউটিউব মনিটাইজেশন ছাড়া আয় করার কয়েকটি উপায়!

শেষ কথা

আজকে আমাদের আর্টিকেল এর মূল বিষয় ছিল— বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার উপায় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আমরা শুধুমাত্র আপনাকে কিঞ্চিৎ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি উপায়গুলো সম্পর্কে। আপনি যদি ওপরোক্ত যেকোনো একটা উপায়ে আয় করতে চান অবশ্যই ভালোভাবে সে বিষয়ে জেনে নিতে হবে। আশা করি, আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন। কারও কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন! আর পোস্টটি পরিচিত বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, তাদেরও কাজে লাগতে পারে! এরকম নিত্যনতুন আর্টিকেল পেতে বিজ্ঞাননিউজের সাথেই থাকুন।

#স্পন্সরড পোস্ট#

[[এই আর্টিকেলটি স্পন্সর করেছে বঙ্গটিউটর ডট কম। এধরনের আরও আর্টিকেল পড়তে চাইলে ভিজিট করুন: BongoTutor.com]]

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন: