বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত | নিরাপদ থাকা ও প্রতিরোধ করার উপায় কী?

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত | নিরাপদ থাকা ও প্রতিরোধ করার উপায় কী?

গতকাল অর্থাৎ রবিবার (০৮/০৩/২০২০) বিকেলে বাংলাদেশে তিন জন রোগীর মধ্যে নভেল করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে। রোগীদের মধ্যে দুইজন পুরুষ হলো ইতালি থেকে দেশে ফেরত এবং একজন মহিলা যিনি ওই দুই পুরুষের যেকোনো একজনের পরিবারের সদস্য। এর বাইরে রোগীদের সম্পর্কে আর বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। যাই হোক, কোভিড-১৯ সারা বিশ্ব ঘুরতে ঘুরতে শেষমেষ বাংলাদেশে এসেই পড়ল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই নিয়ে সারা বিশ্বের ১০৪টি দেশে মোট ৩৮০২ জন করোনা ভাইরাসের কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। তবে খুব বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার খুব কম। আর এই ভাইরাসে যারা মারা গেছেন তাদের অধিকাংশই অন্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন কিংবা বৃদ্ধ-শিশু ছিলেন যাদের ইমিউনো সিস্টেম দুর্বল। যেহেতু বাংলাদেশে এসে পড়েছে, আমাদের আতঙ্কিত না হয়ে, ভয় না পেয়ে, সঠিকভাবে এই ভাইরাসের মোকাবিলা করতে হবে। এই পোস্টে আমরা, কীভাবে নভেল করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকা যায় ও এই ভাইরাসকে মহামারী আকারে ছড়ানো থেকে প্রতিরোধ করা যায় সেটা সম্পর্কে জানবো। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাস সনাক্ত: নিরাপদ থাকা ও প্রতিরোধ করার উপায়গুলো

  • হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিন। প্রতিবার বাইরে থেকে বাসায় ফিরে ২০ সেকেন্ড করে সাবান পানি বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
  • কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিন। অবশ্যই রুমালের বদলে টিস্যু ব্যবহার করুন। আর টিস্যুটা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন
  • কারও সাথে কথা বলার সময় হ্যান্ডশেইক করা ও গায়ের সাথে গা লাগিয়ে কথা বলার বদঅভ্যাস এখন থেকে পরিহার করুন!
  • রান্না না করা গোশত ও ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন। হাইড্রেট রাখতে বেশি বেশি ডাবের পানি, স্যালাইন ও বিভিন্ন ফলের জুস খেতে পারেন। আর দিনে কমপক্ষে ২ লিটার পানি তো সব মানুষেরই খেতে হয়!
  • জ্বর, সর্দি, কাশি লক্ষণগুলো দেখা দেয়া মাত্রই হেলাফেলা না করে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খান এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে দেবেন না। এ ছাড়া সরকারি হটলাইন নাম্বারে ফোন দিয়ে টেস্ট করিয়ে নিতে পারেন কোভিড-১৯ নেগেটিভ নাকি পজেটিভ! [হটলাইন নাম্বার- ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১]
  • ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা একদম এড়িয়ে চলুন।
  • ভিড় থেকে একদম দূরে থাকুন।
  • সুস্থরা অযথা ফেস-মাস্ক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। সুস্থদের মাস্ক ব্যবহার উল্টো করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
  • করোনা প্রতিরোধে ৫ওয়াক্ত নামাজ পড়াও ভূমিকা রাখতে পারে! কারণ ৫বেলা নামাজ পড়ার জন্য ৫বার ওজু করা হয়! ওজুর ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে! তবে নামাজ পড়তে হবে ঘরে একা একা। মসজিদে গিয়ে জামাতে পড়লে, ভিড়ের কারণে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে!
  • যতদিন দেশ করোনামুক্ত হচ্ছে না, বাচ্চাদের চুমু দেওয়া থেকে বিরত থাকুন! আর অন্য মানুষকে নিজের বাচ্চা আদর করতে কিংবা চুমু দিতে মোটেও দেবেন না!
  • সবার আগে জরুরি হলো আপনার ইমিউনো সিস্টেমকে শক্তিশালী করা! আপনার শরীরের ইমিউনো সিস্টেম যদি স্ট্রং হয়, শুধু নভেল করোনা না, করোনার বাপ আসলেও কোনো সমস্যা হবে না। আপনার শরীরই করোনাকে মেরে ফেলে, আপনাকে নিরাপদ রাখবে! এখন প্রশ্ন হলো ইমিউনো সিস্টেম স্ট্রং করবেন কীভাবে? স্ট্রং করার জন্য পরিমাণ মতো সুষম খাবার খেতে হবে, পরিমাণ মতো বিশ্রাম নিতে হবে (ঘুমাতে হবে), নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, যত কু-অভ্যাস আছে সব ত্যাগ করতে হবে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে শরীরে অন্য রোগ বাঁধিয়ে রেখে দুর্বল হয়ে থাকা যাবে না!
  • এরপরও যদি নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যান তখন কী করবেন? প্রথমত আতঙ্কিত হবেন না! কারণ করোনার চেয়ে অন্য কারণে মারা যাবার চান্স বাংলাদেশে বেশি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার ২% মাত্র! মানে করোনায় আক্রান্ত হয়েও প্রতি একশ জনে আটানব্বই জন সুস্থ হয়ে যান। সুতরাং, আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে যান, যথাযত নিয়মে চিকিৎসা নিন। অন্য মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। অযথা প্যানিক হবেন না!

এ ছাড়া আরও আশার কথা হলো- উচ্চ-তাপমাত্রায় করোনার প্রাদুর্ভাব খুব একটা হয় না! তো বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই গরম পড়া শুরু হয়েছে। এই মাসে গড়ে যদি ২৫ ডিগ্রী+ থাকে, তাহলে হয়তো করোনার প্রাদুর্ভাব কমই হবে!

সুতরাং, ভয় কিংবা আতঙ্ক নয়! সকলে মিলে আসুন সচেতনতা বাড়াই!

F. A. Q:

বাংলাদেশে প্রথম নভেল করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয় কখন?

রবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২০ তারিখে বাংলাদেশে প্রথম নভেল করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়। ইতালি ফেরত দুই প্রবাসী (পুরুষ) ও তাদের মধ্যে একজনের পরিবারের এক মহিলার মধ্যে প্রথম নভেল করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে।

নভেল করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে সবচেয়ে জরুরি কী?

নভেল করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে, সবার আগে জরুরি হলো আপনার ইমিউনো সিস্টেমকে শক্তিশালী করা! আপনার শরীরের ইমিউনো সিস্টেম যদি স্ট্রং হয়, শুধু নভেল করোনা না, করোনার বাপ আসলেও কোনো সমস্যা হবে না। আপনার শরীরই করোনাকে মেরে ফেলে, আপনাকে নিরাপদ রাখবে! এখন প্রশ্ন হলো ইমিউনো সিস্টেম স্ট্রং করবেন কীভাবে? স্ট্রং করার জন্য পরিমাণ মতো সুষম খাবার খেতে হবে, পরিমাণ মতো বিশ্রাম নিতে হবে (ঘুমাতে হবে), নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, যত কু-অভ্যাস আছে সব ত্যাগ করতে হবে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে শরীরে অন্য রোগ বাঁধিয়ে রেখে দুর্বল হয়ে থাকা যাবে না!

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেলে তখন কী করব?

যদি নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যান তখন কী করবেন? প্রথমত আতঙ্কিত হবেন না! কারণ করোনার চেয়ে অন্য কারণে মারা যাবার চান্স বাংলাদেশে বেশি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার ২% মাত্র! মানে করোনায় আক্রান্ত হয়েও প্রতি একশ জনে আটানব্বই জন সুস্থ হয়ে যান। সুতরাং, আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে যান, যথাযত নিয়মে চিকিৎসা নিন। অন্য মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। অযথা প্যানিক হবেন না!

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: