থার্মাল গান দিয়ে কি করোনা ভাইরাস টেস্ট করা যায়?

থার্মাল গান দিয়ে কি করোনা ভাইরাস টেস্ট করা যায়?

এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন জায়গায় থার্মাল গান দেখে অনেকের হয়তো ধারণা হয়েছে এটাই হয়তো করোনা টেস্ট করা যন্ত্র। আসলেই কি এটা দিয়ে করোনা টেস্ট করা যায়? উত্তর হলো- না। এই গান দিয়ে কেউ করোনায় আক্রান্ত কিনা সেটা বোঝা যায় না। তাহলে কেন এটা দিয়ে টেস্ট করা হচ্ছে। আসলে এটা কেন করা হচ্ছে তার উত্তর মিলবে থার্মাল গান কী জিনিস সেটা জানলেই।

থার্মাল গান

থার্মাল গান আসলে একটি থার্মোমিটার। বাড়িতে থাকা পারদ থার্মোমিটার শরীরের তাপে পারদ আকারের দিক থেকে কতটা বাড়ল সেটি দিয়ে তাপমাত্রা মাপে। থার্মাল গান দিয়ে শুধু শরীর না, যে কোনো জিনিসের তাপমাত্রা মাপা যায়। আসুন দেখি কীভাবে।

একটি জিনিস চারপাশের থেকে উত্তপ্ত থাকলে, তা সেই অতিরিক্ত তাপকে ইনফ্রারেড রশ্মি রূপে বের করে দেয়। এই রশ্মি চোখে দেখা যায় না। তবে গরম কিছুর কাছে হাত দিলে হাতে গরম ভাবটা বোঝা যায়, তার মানে ওই ইনফ্রারেড রশ্মি আপনার হাতে লাগছে। এই তত্ত্বটি কাজে লাগিয়েই গানটি তৈরি।

এখানে একটি লেন্স থাকে, যা ওই ইনফ্রারেড রশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে একটি সেন্সরের উপর ফোকাস করে। এই সেন্সরটি এই থার্মাল এনার্জির মাপ অনুযায়ী একটি ইলেক্ট্রিক সিগনাল উৎপন্ন করবে, সেটি তাপমাত্রা হিসেব স্ক্রিনে দেখায়।

থার্মাল গান
Photo Source: Internet  

 

এটা বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হয়- মেশিনের তাপমাত্রা দেখতে, টেলিস্কোপ অপারেট করার জন্য মেঘ দেখতে, হিটার/ওভেনের তাপমাত্রা দেখতে, দমকল কর্মীরা আগুনের তাপমাত্রা দেখতে, এমন কি আগ্নেয়গিরির তাপমাত্রা দেখতেও। এক্ষেত্রে অনেক বড় মাপের যন্ত্র ব্যবহার হয়।

জ্বর হয় এমন মহামারীতে, যেমন- এখন করোনা (আগে সার্স, ইবোলা) পাবলিক স্ক্রিনিং করতে থার্মাল গান খুব কার্যকরী। কারণ এটি মানুষের গায়ে লাগাতে হয় না, অতএব কন্ট্যামিনেশন হয় না, এবং চটজলদি মাপা যায়। যা সাধরণ থার্মোমিটার দিয়ে সম্ভব না। তবে নির্দিষ্ট দূরত্বে ধরে রেখে রিডিং নিতে হয়। বেশি কাছে বা দূরে চলে গেলে রিডিং ভুল হয়ে যাবে।

থার্মাল গান

অতএব বলা যায়, থার্মাল গান লোকের জ্বর দেখতে লাগে, করোনা সংক্রমণ বুঝতে নয়। যদি ঠান্ডা লেগে জ্বর আসে, ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া হয়, তবুও থার্মাল গানে জ্বর ধরা পড়বে। এখন কোথাও এটা পাওয়া যাচ্ছে না কারণ বিভিন্ন দেশের সরকার তা কিনে নিয়েছে। তবে বাড়ির থার্মোমিটার দিয়ে আপনাদের কাজ চলে যাবে।

বিভিন্ন জায়গায় এটা দিয়ে টেস্ট করা হচ্ছে যাতে করে কেউ জ্বরে আক্রান্ত কিনা তা বোঝা যায়। যদি জ্বরে আক্রান্ত হয় তাহলে তাকে আরও বিভিন্ন ভাবে টেস্ট করা যাবে করোনা পজেটিভ কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত | নিরাপদ থাকা ও প্রতিরোধ করার উপায় কী?

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: