Home » ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ : একজন বিজ্ঞানীর নীরব প্রস্থান!
ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ : একজন বিজ্ঞানীর নীরব প্রস্থান!

ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ : একজন বিজ্ঞানীর নীরব প্রস্থান!

১৯৬৯ এর এক চমৎকার সকালে দুই প্রিয় বন্ধু ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন হঠাৎ থেমে বামে মোড় নিলেন, যে রাস্তাটি চলে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের দিকে। আনোয়ার নামে অন্য বন্ধুটি বিভ্রান্ত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “ওদিকে কেন যাচ্ছ? আমাদের তো সোজা যেতে হবে।”

জবাবে প্রথম বন্ধুটি জানালেন, “তুমি যাও। আমি ফিরে আসব।”

সেদিন তিনি, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও, সেটি ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-রসায়ন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ছিল, একজন মহান বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার যাত্রার সূচনা। সেদিনের সেই ছাত্রটি আর কেউ নন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ ছিলেন।

ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) এর উপাচার্য ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের প্রাক্তন ডিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ (৩১ আগস্ট ১৯৫১ – ১১ অক্টোবর ২০২৩) বিশ্বব্যাপী খ্যাতিমান একজন গবেষক ও বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক একটি স্বনামধন্য জার্নালের গবেষণা নিবন্ধে প্রকাশিত লিস্টে, “ফার্মাকোলজি এন্ড ফার্মাসি” ফিল্ডের (সাবফিল্ড: মেডিসিনাল এন্ড বায়োমলিকুলার কেমিস্ট্রি) সারাবিশ্বের সেরা ২% বিজ্ঞানী-গবেষকদের মধ্যে একজন ছিলেন বিগত চার বছর ধরে। SCOPUS-এ ৩৫১টি ও PubMed-এ ৯১টি তালিকাভুক্ত গবেষণাপত্রসহ, গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণা ১৭২১৫ (৩০/১২/২০২৩ পর্যন্ত) বার সাইটেড হয়েছে। AD Scientific Index (2023) এর তথ্য অনুসারে, গবেষণা ও সাইটেশনের ভিত্তিতে বাংলাদেশি সকল গবেষকদের মধ্যে ৩য় অবস্থানে আছেন তিনি। এছাড়া, প্রকৃতি বিজ্ঞান / জীব বিজ্ঞান ক্যাটগরিতে গবেষকদের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আছেন তিনি।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া থেকে ফার্মাকোলজি-এথনোমেডিসিন ফিল্ডে বিশ্বব্যাপী পরিচিত একজন গবেষক-বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার; তাঁর এই যাত্রা সকলের জন্য অনুকরণীয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ ১৯৫১ সালের ৩১ আগস্ট খুলনা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। তাঁর বাবা মরহুম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একজন ডাক্তার এবং মা মরহুম সালমা বেগম জিন্নাত আক্তার ছিলেন গৃহিণী। ডাক্তার বাবা ও গৃহিণী মায়ের ছায়ায়, তিনি পড়াশোনাবান্ধব পরিবারে বেড়ে উঠেন। ছোটোবেলা থেকেই পড়া, অনুসন্ধান, জ্ঞানার্জন এসকল গুণাবলী তিনি পরিবার থেকে আয়ত্ব করেছেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ ছিলেন সবার বড়ো। তাঁর ছোটো ভাই মরহুম মোহাম্মদ হামিদ্দুল্লাহও একজন ডাক্তার ছিলেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ পুরান ঢাকায় অবস্থিত সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল এন্ড কলেজএ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এখান থেকে তিনি ১৯৬৭ সালে প্রথম বিভাগসহ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন তৎকালীন ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে যথারীতি প্রথম বিভাগসহ ১৯৬৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন।

উচ্চমাধ্যমিকের পরেই তাঁর জীবনের পালাবদলের শুরু। তখন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ভর্তি হন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রাণ-রসায়ন বিভাগে। এখান থেকে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রথম বিভাগসহ স্নাতক ও ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় বিভাগসহ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

এরপর তিনি কিছু সময় উক্ত বিভাগেই প্রভাষক (১৯৭৬-১৯৭৮) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য মর্যাদাপূর্ণ কমনওয়েলথ বৃত্তি লাভ করেন। এই কমনওয়েলথ বৃত্তির অধীনে তিনি হংকং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণ-রসায়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি (১৯৭৮-১৯৮২) লাভ করেন।

কর্মজীবন

ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর কর্মজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-রসায়ন বিভাগের প্রভাষক (১৯৭৬-১৯৭৮) হিসেবে।

এরপর তিনি হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ে কমনওয়েলথ রিসার্চ স্কলার (১৯৭৮-১৯৮২), যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-রসায়ন বিভাগে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো ও পরবর্তীতে গবেষণা সহযোগী (১৯৮২-১৯৯০) এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো (১৯৯০-১৯৯২) হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, ১৯৯২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইস সেন্টার ফর রিসার্চ, পেনসিলভানিয়া-তে প্রথমে সহযোগী বিজ্ঞানী এবং পরবর্তীতে গবেষক বিজ্ঞানী (দ্বিতীয়) হিসেবে কাজ করেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর তিনি নাড়ির টানে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও জীব-প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০০২ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)-তে জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী উপচার্য (২০০৮-২০১৭) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে (২০২২) তিনি ইউডার উপচার্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছিলেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত উক্ত পদে অব্যাহত ছিলেন।

➡️ আরও পড়ুন: লিসে মাইটনার: অবহেলিত নারী বিজ্ঞানীর গল্প!

গবেষণা ও উল্লেখযোগ্য কাজ

ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর উল্লেখযোগ্য গবেষণা কর্মের মধ্যে রয়েছে—

  • ডাইঅ্যাসিটাইল মনোক্সাইম ব্যবহার করে ইউরিয়া ও সিট্রুললাইন নিরূপণ পদ্ধতি উন্নত করা। গুগল স্কলারের তথ্য অনুসারে, তাঁর এই গবেষণাপত্র দুটি যথাক্রমে ৫৬২ ও ৪২০ বার সাইটেড হয়েছে। 
  • পাইরুভেট ডিহাইড্রোজেনেজ এনজাইমের নতুন সাব-ইউনিট আবিষ্কার।
  • Candida lipolytica (বর্তমান নাম: Yarrowia lipolytica) ইস্ট থেকে নভেল কাইনেজ আবিষ্কার।
  • ধান তুষ থেকে H5N1 (বার্ড ফ্লু ও ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস) ভাইরাস প্রতিরোধী ঔষধি উপাদান আবিষ্কার, যা মানুষের প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার নিরাময়েও ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও এটি বিভিন্ন মাছ, চিংড়ি ও হাঁস-মুরগির অনেক রোগ নিরাময় করতে পারে। তিনি এই আবিষ্কারের ওপর আন্তর্জাতিক পেটেন্টও পেয়েছেন।
  • বাংলাদেশের ৫০টির বেশি উপজাতির মধ্যে থেকে ৪০০ জনেরও বেশি স্থানীয় ভেষজ চিকিৎসকদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, ভেষজ ঔষধির ওপর সার্ভে। উক্ত গবেষণার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি বাংলাদেশের ৮০০টিরও বেশি গাছের তথ্যসমেত ঔষধি গাছের সবচেয়ে বড়ো ডাটাবেইস তৈরি করেছেন।
  • দুর্ভিক্ষকালীন ভোজ্য উদ্ভিদের পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ সম্পর্কে সার্ভে, যা বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও অন্যান্য কারণে সৃষ্ট বাংলাদেশের খাদ্য সংকট সমস্যা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারবে।
  • কার্যকরী ফাইটোরিমিডিটিং উদ্ভিদ খুঁজে বের করা, যেগুলো মাটি ও পানি থেকে আর্সেনিক, টেক্সটাইল ও ট্যানারি বর্জ্য, ইত্যাদি ক্ষতিকর রাসায়নিক অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
  • ছোটো খাঁড়ি ও পুকুরে অধিক পরিমাণ মাছ চাষের পদ্ধতি উন্নতকরণ, যা বাংলাদেশের প্রান্তিক মাছ চাষীদের সহায়তা করতে পারে।
  • মলিকুলার ডকিং পদ্ধতি ব্যবহার করে, দেশীয় নিশিন্দা গাছ হতে নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ৩টি সম্ভাব্য ঔষধি উপাদান খুঁজে বের করেন, যেগুলো করোনা ভাইরাসের সি-৩ স্পাইক প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে করোনা ভাইরাসকে অকার্যকর করে দিতে পারে। এছাড়াও কোভিড-১৯ এর ওপর তাঁর একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
  • তাঁর সম্পাদনকৃত গবেষণার ফলে, বাংলাদেশের অসংখ্য অ্যান্টি-ডায়াবেটিক, ব্যথানাশক ও অ্যান্টি-ক্যান্সার ভেষজ উদ্ভিদের শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে।
  • জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র, বইয়ের চ্যাপ্টার, বই, আন্তর্জাতিক পেটেন্টসহ সব মিলিয়ে তাঁর ৭০০ টিরও অধিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা রয়েছে। রয়েছে ২০০ এরও বেশি কনফারেন্স প্রকাশনা।

বৈজ্ঞানিক কমিউনিটি ও জার্নালের সাথে সম্পৃক্ততা

অ্যাকাডেমিক সম্মাননা ও স্বীকৃতি

➡️ আরও পড়ুন: হাইপেশিয়া: গণিতের প্রথম মহীরুহ নারী এবং একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ইতিহাস!

ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর ব্যক্তিগত দর্শন

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ স্পষ্ট ব্যক্তিগত নীতিতে চলতেন। তিনি সবকিছুর ওপরে নিজের কাজকে প্রাধান্য দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের সমস্যা আমাদের নিজেদেরকেই সমাধান করতে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দেবে না।

তাঁর ভাষ্যমতে, ব্রেইন ড্রেন বর্তমানে বাংলাদেশের সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভাবনাময় নবীন শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে, আর দেশে ফিরে আসছে না। এতে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

তরুণরা যদি বিদেশে গিয়ে আর ফিরে না আসে, তাহলে দেশের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবে কারা? এই বিষয়ে, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ সব সময় দুঃখ প্রকাশ করতেন।

তাঁর মতে, বাংলাদেশ নিপাহ ভাইরাস, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া সহ নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। অন্য কোনো দেশের এগুলো সম্পর্কে চিন্তা নেই। আমাদেরে সব সমস্যা সমাধানের জন্য একমাত্র আমরাই কাজ করতে পারি।

অন্যদিকে, তিনি বাংলাদেশকে নতুন গবেষকদের জন্য সম্ভাবনাময় জায়গা হিসেবেও দেখতেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে ৫৫০০ প্রজাতিরও বেশি উদ্ভিদ রয়েছে, আর আমরা এখনো পর্যন্ত এর মাত্র ০.২% নিয়েও গবেষণা করিনি। তাই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে তিনি এটিকে নবীন গবেষকদের গবেষণা যাত্রা শুরু করার জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে দেখতেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ নবীন গবেষকদের জন্য পথ প্রদর্শক ছিলেন। তাঁর মতে, যদিও বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে দেশের জন্য প্রয়োজন, তবে গবেষণার সুবিধা ও যন্ত্রপাতির দিক থেকে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় বহুগুণ পিছিয়ে। ভারত, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, থাইল্যান্ড, ইত্যাদি দেশগুলো এদিক দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক এগিয়ে। তাই, সঠিক জ্ঞানার্জন ও নিজেকে তৈরি করার জন্য তরুণদের উচিত এসব দেশ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। তবে, শিক্ষাগ্রহণের পর অবশ্যই শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত আসতে হবে। এভাবেই তরুণরা জাতির উন্নতির জন্য কাজ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর অনেক ছাত্র-ছাত্রী বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন, এখনো করছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ ১৯৭৬ সালে ড. রওনক জাহানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক ড. রওনক জাহান ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)- এর জীব বিজ্ঞান অনুষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তাঁদের দুজনের সংসারে রোশনি নাহার রহমতুল্লাহ নামে একজন কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁদের মেয়ে রোশনি, পরিবেশগত অনুশীলন (Environmental Practice) এবং তাঁদের জামাতা যাইদ, তথ্য প্রযুক্তি (IT) বিষয়ে- জেমস কুক ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।

মৃত্যু  

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ ১১ই অক্টোবর ২০২৩, বাংলাদেশি সময় বিকেল ৩:৪৫ মিনিটে, সিঙ্গাপুরের ফারার পার্ক হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থান শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন, এ ছাড়া পরবর্তীতে তাঁর গলব্লাডার ক্যান্সারও ধরা পড়েছিল।

*****

নীরবে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কাজ পাগল একজন জীব বিজ্ঞানী। রেখে গেলেন— বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, অসংখ্য গবেষণা কর্ম, অসংখ্য শুভাকাঙ্খী ও স্নেহ অনুরাগী ছাত্র-ছাত্রী। তাঁর জীবন, আমাদের নিজের কাজকে ভালোবাসতে, নিজের দেশকে ভালোবাসতে শেখায়। অসংখ্য নবীন তরুণ গবেষকদের অনুকরণীয় আদর্শ তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে এত এত অর্জনের পরেও, সবসময় নম্র ও বিনয়ী থাকতেন তিনি। হাসিমাখা মুখে বলতেন, ‘আমি কোনো আইকন নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ, যে তাঁর সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে নিজের কাজ করে যাচ্ছি।’ নবীনরা তাঁর কাছ থেকে বিনয়ী হবার, নিজের কাজ ঠিকঠাক মতো করে যাওয়ার, এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর এই প্রস্থান, শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের জীব বিজ্ঞান জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি! তিনি তাঁর কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকবেন সারা পৃথিবীর অসংখ্য অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞানপ্রেমী মানুষদের মনে।

প্রবাদে আছে— ‘কীর্তিমানের মৃত্যু নেই!’ মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মের মাঝেই। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর মতো বিজ্ঞানের নক্ষত্র, যিনি নীরবে আলো ছড়িয়ে গেছেন, তিনিও বাঁচুক আমাদের স্মরণে, শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়…!

—————

তথ্যসূত্র:

  1. SCOPUS
  2. PubMed
  3. UODA
  4. Google Scholar
  5. AD Scientific Index
  6. GMPC
  7. GNOBB
  8. BDRC
  9. Elsevier
  10. ResearchGate

➡️ আরও পড়ুন: মহেন্দ্রলাল সরকার : একজন উপমহাদেশীয় বিজ্ঞানীদের চাষা!

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন: