ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস-রক্ত জমাট বাঁধা

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস-রক্ত জমাট বাঁধা
 

রক্ত যদি কোন কারণে একটু বাইরে পড়ে তাহলে শুকিয়ে যায় , জমাট বেঁধে যায় তাহলে আমাদের শরীরের মধ্যে কেন জমাট বেঁধে যায় না?

শরীরের ভিতরে হেপারিন (Heparin) নামক রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি, রক্তনালীর অভ্যন্তরের মসৃণতা ও দ্রুত রক্ত সঞ্চারণের জন্য শরীরের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না।

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস
হেপারিন

এরপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের শরীরের গভীরে অবস্থিত শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের উরু বা পায়ের নিম্নাংশের শিরায় এই ধরনের জমাট বাঁধা রক্ত দেখতে পাওয়া যায়। এই অবস্থায় শিরাগুলো যদি ফুলে যায় বা স্ফীত হয়ে ওঠে তবে এটিকে থ্রম্বোফ্লেবাইটিস (Thrombophlebitis) বলা হয়। এই জমে থাকা রক্ত ফুসফুসে (Lungs) ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ফুসফুসে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এটি পালমোনারি এম্বোলিজম (Pulmonary Embolism) নামে পরিচিত।

এক বা একাধিক শিরার গভীরে (Deep Vein), সাধারণত পায়ে  রক্ত জমাট বাঁধলে (Thrombus) ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা DVT-এর সৃষ্টি হয়। এর ফলে পা ফুলে যেতে পারে এবং পায়ে ব্যথা হতে পারে। তবে এটি কোনো উপসর্গ ছাড়াও দেখা দিতে পারে।

যেসব রোগ বা অসুস্থতা আমাদের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে সেসব রোগের জন্যও ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস দেখা দিতে পারে। কোনো দুর্ঘটনা বা অপারেশনের পর শারীরিক অসুস্থতা বা চিকিৎসার জন্য আমাদের হাসপাতালে বা নিজ বাসস্থানে চলফেরার পরিমাণ অনেকাংশে কমে যায়। এ অবস্থায়ও ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসের সৃষ্টি হতে পারে।

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে কেননা শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ফলে শিরা ফেটে যেতে পারে বা রক্ত জমাট বাঁধা অবস্থায় আমাদের ফুসফুসে পৌঁছে জমা হতে পারে এবং রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা পালমোনারি এম্বোলিসম (pulmonary embolism) নামে পরিচিত।

বিভিন্ন জরিপে জানানো হয়, ৪০ বছরের নীচে যাদের শরীরে কোন কারণ ছাড়াই জমাট বাধা রক্তের চাকা দেখা গেছে তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মারা গেছে৷ ২০০৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় এগার’শ৷ এর মধ্যে প্রায় ৬০ জনই মারা গেছে যাদের বয়স ২০ বছরের নীচে৷

প্রফেসর বেভারলি হান্ট জানান, থ্রম্বসিসের ব্যাথা অনেকই অনুভব করে, রক্ত জমাট বাধা অংশ দেখে কিন্তু গ্রাহ্য করে না৷ এই সমস্যা বেড়েই চলেছে৷ সাধারণ মানুষকে সচেতন করা সম্ভব হচ্ছে না৷ তিনি জানান, ‘‘আমার ক্লিনিকে অনেক অল্প বয়স্ক ছেলে মেয়েরা আসছে৷ সবার একই অভিযোগ – পায়ে ব্যাথা, কোন ব্যাথা পায়নি অথচ পা ফুলে রয়েছে৷ এগুলোই হচ্ছে মূল লক্ষণ৷

সুতরাং এমন কিছু অনুভব হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

আরও  পড়ুনঃ ভাইরাসে এন্টিবায়োটিক কাজ করেনা কেন?

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: