ডাক্তারি পাশ করা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স

ডাক্তারি পাশ করা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স
 

আমরা সব সময়ই বলে আসছি, “যন্ত্র কখনও মানুষের জায়গা নিতে পারবেনা” । এমন হয়েছিল যখন ই-মেইল এসেছিল তখনও। মানুষ বলতো ইমেইল কখনও চিঠির জায়গা নিতে পারবেনা। চিঠির জায়গা ইমেইল নেয়নি। চিঠি আপনি কয়টা লিখেছেন একটু ভাবলেই আমার কথার অর্থ বুঝে যাবেন।

মানুষ সৃষ্টিকর্তার পরে কারো কাছে প্রাণ আকুতি করে সে হচ্ছে ডাক্তার। কিন্তু মানুষ কি নিজের জীবন কোন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সর উপর ছেড়ে দেবে?

যুক্তরাজ্যের ব্যাবিলন হেলথ নামক কোম্পানিটি রুয়ান্ডাতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। রোগের লক্ষণগুলো চ্যাটবটের মাধ্যমে নিয়ে এই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমাধান দিয়ে থাকে। এই সফটওয়্যার MRCGP এর মতো মেডিকেল এক্সামগুলোতে ৮১% এর বেশি মার্ক নিয়ে পাশ করছে, যেখানে গড়ে একজন ‘মানুষ’ ডাক্তারের মার্ক থাকে ৭২%। ব্যাবিলনের সিইও আলি পার্সা বলেন, এটা শুধু ডাক্তারদের মতোই অসাধারণ পারফর্মেন্স দিচ্ছে না, বরং ৯৮% নির্ভুলভাবে রোগের সমাধান দিচ্ছে। আর একটা মেশিন যখন কিছু একটা শেখে সেটা আর কখনোই সে ভোলে না।

এটার মূল সুবিধা হচ্ছে ভুল হওয়ার কোন চান্স নেই । মেশিন কোন সময়ই ভুল করবেনা । এটা কোনদিন কোনজিনিস ভুলে যাবেনা।একজন ডাক্তার সময়ের স্রোতের সাথে সাথে অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন। তিনি দৈনিক দশজন করে, একদিনও বিরতি না নিয়ে, টানা ত্রিশ বছর যদি রোগী দেখেন, তবে তার পক্ষে লাখখানেকের মতো রোগী দেখা সম্ভব। আর আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এই লাখখানেক রোগী দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে একদিনেই। সে মানুষের সাহায্য নিয়ে শেখার পাশাপাশি শিখতে পারে নিজে থেকেই।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কখনও ছুটির প্রয়োজন হবে না। রিপোর্ট দেখতে দেখতে ক্লান্ত হবে না। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মৃত্যুর সাথে সাথে তার অর্জিত অভিজ্ঞতা হারিয়ে যায়। তিনি হয়তো অভিজ্ঞতা লিখে রেখে যেতে পারেন, কাউকে শেখাতে পারেন। কিন্তু সেগুলো পড়া আর নিজে অভিজ্ঞতা অর্জন মোটেই এক নয়। এক্ষেত্রে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সে সেই সমস্যাও নেই। একবার কিছু শিখলে তা ভোলার কোনো সুযোগ নেই। এ সবকিছুর সাথে টেক্কা দেয়াটা মানুষের পক্ষে কষ্টকর হবার কথা।

আমরা সবাই বিশ্বাস করি, একটা সময়ে মানুষের সব কাজ রোবট বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স করবে। কিন্তু সেটা অনেক পরের কথা। এই লেখার মূল উদ্দেশ্যই হলো এটা বলা যে, সেই সময় ইতোমধ্যে এসে গেছে। সব কাজ কম্পিউটারের হাতে চলে যেতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। একটি প্রচলিত ধারণা হলো, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স হয়তো মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ করতে পারে, কিন্তু বুদ্ধির দিক থেকে বিচার করলে অনেক পিছিয়ে। একটি উদাহরণ দেখলে বুঝতে পারবো, আমাদের এই ধারণা কতটা ভুল!

দাবা খেলায় ELO হলো একটি রেটিং সিস্টেম, যা দিয়ে পরিমাপ করা হয় একজন খেলোয়াড় দাবায় কতটা পারদর্শী। মানুষের মাঝে এখন পর্যন্ত সেরা ELO রেটিং ২৮৮২, যার মালিক ম্যাগনাস কার্লসেন। বর্তমানে ‘স্টকফিশ’ নামক আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজন্সের ELO রেটিং ৩৪৫৮।

ELO রেটিং ২০০ এর বেশি থাকার অর্থ হলো, দুজনের মধ্যে যার রেটিং ২০০ বেশি, সে অপরজনের বিপক্ষে ৭৮% ম্যাচে জয়লাভ করবে। এই রেটিং পার্থক্য যদি ৬০০ হয়, তখন জেতার সম্ভাবনা ৭৮% থেকে লাফ দিয়ে চলে যায় ৯৮% এ! অর্থাৎ কার্লসেনও স্টকফিশের বিপক্ষে ৯৮% খেলায় হারবে!

এতে করে সহজেই বোঝা যাচ্ছে ডাক্তারের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ হয়ে আসছে । আর এটা এতো কম খরচে হবে যে , বিনা চিকিতসায় মানুষ মারা যাবে এটা হওয়া অসম্ভব পর্যায়ে চলে আসবে ।

আরও পড়ুনঃ নিজের শখের ফেসবুক আইডি কীভাবে ডিজেবল হওয়ার হাত থেকে বাঁচাবেন?

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: