চোখের কৃমি- লোয়া লোয়া

চোখের কৃমি- লোয়া লোয়া
 

কয়েকদিন আগেই ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখলাম । এক মুরুব্বির চোখের ভেতর থেকে কৃমি বের করা হচ্ছে । পেটে কৃমি হয় তা সকলেই জানেন, কিন্তু চোখেও যে ঘুরে বেড়াতে পারে আস্ত একটা কৃমি, তা কি আপনারা জানেন? ছেলেবেলায় আমাদের বিস্কিট খেতে দেয়া হতোনা কৃমি হবে বলে তাহলে চোখের কৃমি হয় কিভাবে! হ্যা এটাই লোয়া লোয়া

চোখের কৃমি- লোয়া লোয়া
                                                                                             Source: huffingtonpost.com

লোয়া লোয়া কৃমির সংক্রমণকে বলা হয় লোয়াসিস। ক্রিসপস গোত্রের ডিয়ার ফ্লাই ও ম্যাংগো ফ্লাই- এই দু’ধরনের মাছি এই কৃমির বাহক। এই দুই মাছির কামড়ে কৃমি মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। মানবদেহে এরা খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে থাকে এবং এরা এত পরিমাণে নতুন কৃমির জন্ম দেয় যে দেহের সেসব স্থানে অনেক সময় ফুলে যায় বা ফুসকুড়ির মতো দেখা দেয়। এই নব্য জন্ম নেয়া বাচ্চা কৃমিগুলোকে মাইক্রোফিলারি বলা হয়। কিছু কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতি মিলিলিটার রক্তে প্রায় ২০০,০০০-৩০০,০০০ এর মতো মাইক্রোফিলারি পাওয়া যায়।

লোয়া লোয়া একধরনের আফ্রিকান পরজীবী, যা আফ্রিকান আই ওয়ার্ম হিসেবে অধিক পরিচিত। আফ্রিকার প্রায় ১ কোটি মানুষ এই কৃমির সংক্রমণের শিকার এবং ২ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ আসন্ন সংক্রমণের তালিকায় রয়েছে। বিশেষত ঘন বর্ষণের এলাকা, যেমন মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় এর প্রকোপ সর্বাধিক। শুধু তা-ই নয়, এসব এলাকায় বেশ লম্বা সময় নিয়ে ভ্রমণরত পর্যটকদের প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ সংক্রমণের সম্ভাব্যতা রয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হতে একেকটি মাইক্রোফিলারির প্রায় ১-৪ বছর লেগে যায়। নুডলসের মতো দেখতে এই লোয়া লোয়া কৃমির জীবনকাল সর্বোচ্চ ১৭ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী কৃমির দৈর্ঘ্য ৫০-৭০ মি.মি. হয়ে থাকে এবং পুরুষ কৃমি অপেক্ষাকৃত খাটো হয়ে থাকে। এদের দৈর্ঘ্য ৫০-৭০ মি.মি.। মানুষের শরীরের সাব-কিউটেনিয়াস টিস্যুতে এরা অবাধে ঘুরে বেড়ায়, এমনকি চোখের সাব-কনজাংকটিভা ও স্ক্লেরাতেও এদের দেখা যায়।

১৭৭০ সালে সর্বপ্রথম এই কৃমির সংক্রমণ সম্পর্কে জানা যায়। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে একটি জাহাজে করে কিছু ক্রীতদাস আমেরিকাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এই জাহাজে কর্মরত একজন ফরাসী সার্জন সর্বপ্রথম এই সংক্রমণটি সনাক্ত করেন।

সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় তা মানবদেহে কোনো লক্ষণের সৃষ্টি করে না। যখন কৃমি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় কনজাংকটিভায় চলে আসে, তখন নানারকম লক্ষণ দেখা দেয়। এমতাবস্থায় প্রধানত দুটি লক্ষণ দেখা যায়।

  • ক্যালাবার সোয়েলিং: যখন প্রাপ্তবয়স্ক কৃমি চোখের কনজাংকটিভায় চলে আসে, তখন চোখ ফুলে যায় এবং চোখে বেশ পিচুটি জমে যায়।
  • চোখে জ্বালাপোড়া: আইবলের উপর কৃমিটি ঘুরে বেড়াতে থাকে, যা প্রদাহ সৃষ্টি করে।

আরো পড়ুনঃ অক্ষর মনে রাখতে সমস্যা- ডিসলেক্সিয়া

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: