আপনি কি জানেন, নিজের অজান্তেই প্রতিনিয়ত খাচ্ছেন প্লাস্টিক?

আপনি কি জানেন, নিজের অজান্তেই প্রতিনিয়ত খাচ্ছেন প্লাস্টিক?
 

প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তা সবারই জানা কথা। কিন্তু নিজের অজান্তে আপনিও যে প্রতিনিয়ত খাচ্ছেন প্লাস্টিক সে ব্যাপারে আদৌ কি কোনো ধারণা আছে? গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, বিশ্বের মোটামুটি সব প্রান্তেই মানুষ প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক খেয়েই চলেছে। যার পরিমাণ নেহায়েত কম নয়। প্রতি সপ্তাহে নিজ দেহে প্রায় ৫ গ্রাম প্লাস্টিক প্রবেশ করাচ্ছেন প্রতিটি মানুষ, যা আয়তনে একেকটি ক্রেডিট কার্ডের সমান। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল জানিয়েছেন, কলের পানি এবং প্লাস্টিকের বোতলজাত পানির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মানুষ তার শরীরে প্লাস্টিক প্রবেশ করিয়ে চলেছেন। এছাড়া চিংড়ি, বিয়ার এবং লবণেও মিলেছে পলিমারের সন্ধান।

নতুন এই আবিষ্কারের পিছনে এর আগের ৫২ সপ্তাহ ধরে কাজ করেছেন গবেষকরা। এবং তাদের হিসেব অনুযায়ী এই ৫২ সপ্তাহে গড়ে একজন মানুষ ২৫০ গ্রাম বা হাফ পাউন্ড সমান প্লাস্টিক খেয়েছেন সম্পূর্ণভাবে নিজেদের অজান্তে। অন্য আরেক সমীক্ষায় জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন মানুষ গড়ে প্রতি বছর ৪৫০০০ প্লাস্টিক কণা খাদ্য এবং পানীয়ের সাহায্যে গ্রহণ করেন যার আকার ১৩০ মাইক্রনের কম। ঠিক একই পরিমাণ প্লাস্টিক মার্কিন নাগরিকগণ তাদের নিত্যদিনের শ্বাসকাজের সময়ও গ্রহণ করে থাকেন।

নতুন এই গবেষণা প্রকাশক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্টারন্যাশনাল এর প্রধান মার্কো ল্যামবার্টিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক যে কেবল আমাদের সাগর, জলাশয় এবং সামুদ্রিক জীবন ধ্বংস করছে তাই-ই না বরং এটি আমাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি এমন পরিস্থিতি থামাতে চাই তবে আমাদের উচিত হবে প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক আমরা প্রকৃতিতে ছেড়ে দিচ্ছি তা বন্ধ করা।’

খাচ্ছেন প্লাস্টিক
সাগরের পানিতে ভাসছে প্লাস্টিক আবর্জনা

বিগত দুই দশকে সারাবিশ্বে যে পরিমাণ প্লাস্টিক উৎপাদন হয়েছে তা বিশ্বের ইতিহাসে সকল সময়ে উৎপাদিত প্লাস্টিকের সমষ্টির সমান। এবং গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চ নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই শিল্প আরও ৪ শতাংশ হারে বাড়তেই থাকবে।

সারাবিশ্বে মোট উৎপাদিত প্লাস্টিকের প্রায় ৭৫ শতাংশের শেষ ঠিকানা হয় আবর্জনা হিসেবে। এর এক তৃতীয়াংশ, আয়তনে যা প্রায় ১০০ মিলিয়ন টন পরিবেশ দূষণের সাথে একেবারে সরাসরি যুক্ত থাকে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে সাগরে মিশতে থাকা ১০০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সম্প্রতি যার প্রমাণ মিলেছে গভীর সাগরে থাকা মাছের শরীরে প্লাস্টিকের অস্তিত্বের সন্ধান পাবার মাধ্যমে।

ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট এঞ্জেলিয়ার বাস্তুতন্ত্রের অধ্যাপক অ্যালিস্টার গ্রান্ট বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণাগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব বড় কোনো চিন্তার কারণ হতে পারে না’। তবে তিনি এও বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্লাস্টিকের হুমকি কোনো প্রকারেই ছোট করা হচ্ছে না।

সূত্র: The Daily Star

আরও পড়ুন: পৃথিবীর জন্য উপহার : নিকোলা টেসলা

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: