কনডম আবিষ্কার হয় যেভাবে!

আধুনিক যুগে জন্মনিরোধক হিসেবেই কনডম বেশি পরিচিত তবে এটার আবিষ্কার মূলত যৌন রোগ ঠেকাতেই। প্রাচীনকালেও কনডমের ব্যবহার এর নিদর্শন মিলেছে । এক এক সময় কালে এক এক জিনিসের ব্যবহার হয়েছে । কখনো পশুর শিং, পশুর চামড়া, খাদ্যনালি আবার কখনো ছিল ধাতব আস্তরণ।

ষষ্ঠদশ শতকে ইউরোপজুড়ে যৌন রোগ সিফিলিস ছড়িয়ে  পড়ে । চারিদিক এ রোগের কারণে মহামারি রকম অবস্থার সৃষ্টি হয়। সে সময়  ইতালির চিকিৎসক গ্যাব্রিয়েলি ফ্যালোপিয়ো (তার নামানুসারে স্ত্রী যৌনাঙ্গ ফ্যালোপিয়ান টিউবের নামকরণ) একটি বিশেষ রাসায়নিকে সিক্ত করা লিনেন আবরণ বানান পেনিসের জন্য, যা সঙ্গমের সময় পেনিসে জড়িয়ে ফিতে দিয়ে বেঁধে দেওয়া হতো। কয়েকজন পুরুষকে এটি ব্যবহার করিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, এতে সিফিলিস ঠেকানো সম্ভব। এটাই প্রথম কনডম, যা এসটিডি বা যৌনরোগনিরোধক।

পৃথিবীর প্রথম যৌনরোগনিরোধক কনদম

রাবার কনডম আবিষ্কার হয় ১৮৫৫ সালের দিকে। তৈরির পর এতে ত্রুটি রয়েছে কি না জানতে তার মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর গ্যাসোলিন এবং বেঞ্জিন ভরা হতো। সে সময় এটার দাম ছিল অনেক বেশি।

১৯২০ সালে ল্যাটেক্স আবিষ্কারের পরই অনেকটা বদল আসে কনডমে। ল্যাটেক্সে উৎপাদনের খরচ কম হওয়ায় মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায় কনডম। ১৯৫৭ সালে কনডমের মান আরও উন্নত হয়। এই সময়ে একটি ব্রিটিশ সংস্থা কনডম লুব্রিকেন্টের বিশেষ ব্যবহার শুরু করে। ১৯৮০ সালে দুনিয়াজুড়ে এইডসের প্রাদুর্ভাব হলে কনডমের ব্যবহার আরও বেড়ে যায়।

সিফিলিস কী?

ট্রেপোনেমা পেলিডাম (Treponema pahdum) নামক এক প্রকার জীবাণু দ্বারা এই রোগ হয়ে থাকে। যৌন মিলনের সময় এ জীবাণু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে এবং রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগের উপসর্গ সুপ্তকাল ৯-৯০ দিন । তবে সাধারণত ১৪ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায়। সিফিলিসের লক্ষণ এবং উপসর্গের উপর নির্ভর করে একে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায় (প্রাথমিক, দ্বিতীয়, সুপ্ত, এবং তৃতীয় পর্যায়)। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত একটি একক যৌনব্যাধিজনিত ক্ষত (একটি দৃঢ়, যন্ত্রণাহীন, চুলকানিবিহীন চামড়ার ক্ষত), দ্বিতীয় পর্যায়ের সিফিলিসে একটি বিকীর্ণ ফুসকুড়ি যা ঘন ঘন হাতের তালুতে এবং পায়ের পাতার নিচের অংশে, সুপ্ত সিফিলিসে সামান্য বা কোনো লক্ষণবিহীন অবস্থা, তৃতীয় পর্যায়ের সিফিলিসে গুমাস, স্নায়বিক বা হৃৎপিণ্ডঘটিত উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ মানুষের হাঁচি হয় কেন?

Facebook Comments