কনডম আবিষ্কার হয় যেভাবে!

আধুনিক যুগে জন্মনিরোধক হিসেবেই কনডম বেশি পরিচিত হলেও, এটার আবিষ্কার হয়েছিল মূলত যৌনরোগ ঠেকাতেই। কনডমের ব্যাপক উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের রক্ষণশীল চিন্তাধারার কারণে বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ব্যবহার সীমিত। তবে আশার কথা হলো, শিক্ষার হার যত বাড়ছে আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের চোখে যত ধরা পড়ছে; কনডমের ব্যবহার ধীরে ধীরে তত বৃদ্ধি পাচ্ছে! যাই হোক, আজকের লেখায় আমরা কনডমের আবিষ্কার এর ইতিহাস সম্পর্কে জানব! কীভাবে উৎপত্তি হয়েছিল এই জিনিসটার? আসুন জানা যাক সেই কাহিনি!

কনডম আবিষ্কার : উৎপত্তি ও ইতিহাস

প্রাচীনকালেও কনডম ব্যবহার করা হতো এর নিদর্শন ইতিমধ্যেই মিলেছে। এক এক সময় কালে এক এক জিনিসের ব্যবহার হয়েছে কনডম হিসেবে। কখনো পশুর শিং, পশুর চামড়া কিংবা পশুর খাদ্যনালী; আবার কখনো ধাতব আস্তরণ ব্যবহৃত হয়েছে কনডম হিসেবে।

ষষ্ঠদশ শতকে ইউরোপজুড়ে যৌনরোগ ‘সিফিলিস’ বেশ বাজে ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। চারিদিক এ রোগের কারণে মহামারির মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। সে সময় ইতালির চিকিৎসক গ্যাব্রিয়েল ফ্যালোপিয়ো (তার নামানুসারে স্ত্রী যৌনাঙ্গের ফ্যালোপিয়ান টিউবের নামকরণ করা হয়েছে) একটি বিশেষ রাসায়নিকে সিক্ত করা লিনেন আবরণ বানান পেনিসের জন্য, যা সঙ্গমের সময় পেনিসে জড়িয়ে ফিতে দিয়ে বেঁধে দেওয়া হতো। কয়েকজন পুরুষকে এটি ব্যবহার করিয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে, এতে সিফিলিস ঠেকানো সম্ভব। এটাই ছিল পৃথিবীর প্রথম কনডম, যা এসটিডি বা যৌনরোগ নিরোধক।

কনডম আবিষ্কার
পৃথিবীর প্রথম যৌনরোগনিরোধক কনডম! [ছবি: উইকিপিডিয়া]
প্রথম রাবার কনডম আবিষ্কার হয় ১৮৫৫ সালের দিকে। তৈরির পর এটাতে ত্রুটি রয়েছে কি না জানতে, এর মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর গ্যাসোলিন এবং বেঞ্জিন ভরা হতো। সে সময় এটার দাম ছিল অনেক বেশি।

১৯২০ সালে ল্যাটেক্স আবিষ্কারের পরে, অনেকটা বদল আসে কনডমে। ল্যাটেক্সে উৎপাদনের খরচ কম হওয়ায় মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায় কনডম। ১৯৫৭ সালে কনডমের মান আরও উন্নত হয়। এই সময়ে একটি ব্রিটিশ সংস্থা কনডম লুব্রিকেন্টের বিশেষ ব্যবহার শুরু করে। ১৯৮০ সালের দিকে দুনিয়াজুড়ে এইডসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে কনডমের ব্যবহার আরও বেড়ে যায়।

যৌনরোগ ঠেকাতে আবিষ্কার হলেও বর্তমানে সারাবিশ্বের মানুষ মূলত জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্যেই কনডম ব্যবহার করে থাকে বেশি!

কনডমের ব্যবহারের উপকারিতা ও অপকারিতা:

আপাত দৃষ্টিতে কনডম ব্যবহারের অপকারিতার চেয়ে উপকারিতা অনেক বেশি! কারণ জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্য যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, সেগুলোর ফলে নারীদের গর্ভকালীন জটিলতা কিংবা বন্ধ্যাত্বর মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে! অন্যদিকে কনডমে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই! ব্যবহারী নারী-পুরুষের কোনো শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় না, তারা সন্তান জন্মদানের জন্য সম্পূর্ণ ফিট থাকে! এ ছাড়া কনডম ব্যবহারের ফলে সিফিলিস, গনোরিয়া মতো ছোঁয়াচে যৌনরোগ কিংবা মরণব্যাধী এইচআইভি ঠেকানোও সম্ভব!

কনডমের অবশ্য অপকারিতাও রয়েছে। বর্তমানের কনডমগুলো রাবার বা প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থে তৈরি; ফলে এগুলো পচনশীল না! তাই ব্যবহারের পর কনডম যেখানে সেখানে ফেলা হলে, সেটা পরিবেশ দূষণে ভূমিকা রাখে। পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে চাইলে, ব্যবহৃত কনডমগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; এক্ষেত্রে রিসাইক্লিং হলো সবচেয়ে ভালো পন্থা!

প্রিয় পাঠক, আজকের লেখা এই পর্যন্ত! এই ধরনের আরও পোস্ট পড়তে বিজ্ঞান নিউজে চোখ রাখুন! ধন্যবাদ!

আরও পড়ুন: মানুষের হাঁচি হয় কেন?

তথ্য: উইকিপিডিয়া

পাঠকের মন্তব্য:
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: