নিজের ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে বড় অঙ্কের টাকা আয় করবেন?

নিজের ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে বড় অঙ্কের টাকা আয় করবেন?

এর আগের পোস্টে আমরা, ওয়েবসাইট কী এবং একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জেনেছিলাম। এ ছাড়া ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে মাল্টিপল ওয়েতে টাকা আয় করা যায় সেটা সম্পর্কে কিছুটা অবগত হয়েছিলাম। এবার আমরা ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্নভাবে টাকা আয়ের সেই উৎসগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করার বিভিন্ন উপায়

  • ই-কমার্স:
ওয়েবসাইট তৈরীর প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে একটি হলো নিজের ব্যবসার প্রসার ও পরিচিতি। আপনি ছোট-বড়, খুচরা-পাইকারি যেকোনো ধরনের ব্যবসায়ী হোন না কেন, আপনার যদি বিক্রয়যোগ্য প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থাকে, সেক্ষেত্রে ই-কমার্স ওয়েবসাইট নিশ্চিতভাবে আপনার ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে আপনার আয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
  • গুগল অ্যাডসেন্স ও অ্যাডমব:
অ্যাডসেন্স ও অ্যাডমব মূলত গুগল কোম্পানির বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম। গুগলের বিজ্ঞাপনদাতারা গুগল অ্যাডওয়ার্ড সার্ভিস ব্যবহার করে তাদের পণ্য, সার্ভিস, ওয়েবসাইট, যেকোনো কিছুর অ্যাড দেয়। আর গুগল সেগুলো পাব্লিশারদের মাধ্যমে (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ) প্রকাশ করে। প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে ‘কস্ট পার ক্লিক’ (CPC) ফরমেটে গুগল যে অর্থ পেয়ে থাকে সেটা পাব্লিশারদের সাথে ভাগাভাগি করে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অসংখ্য দেশের মানুষ শুধুমাত্র এই গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তারা কেউ হয়তো ইউটিউবার, কেউ হয়তো ওয়েবসাইটের মালিক, আবার কেউ মোবাইল অ্যাপের মালিক। ইউটিউব ও ওয়েবসাইটে মূলত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় অ্যাডসেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে। আর মোবাইল অ্যাপে অ্যাডমব সার্ভিসের মাধ্যমে। এখন আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে এবং সেটিতে যদি প্রতিদিন ভালো অ্যামাউন্টের ভিজিটর থাকে, তবে আপনি গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে বিশাল একটা অঙ্ক আয় করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, আপনি আপনার সাইটের একটি মোবাইল অ্যাপ ভার্সন বানিয়ে সেটি গুগল প্লে স্টোরে পাব্লিশ করতে পারেন এবং সেই অ্যাপে অ্যাডমবের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেও আয় করতে পারবেন।
  • CPA Marketing (সিপিএ মার্কেটিং):
সিপিএ এর ফুল ফর্ম হলো কস্ট পার একশন। অনলাইনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইনকাম ওয়েগুলোর মধ্যে সিপিএ মার্কেটিং অন্যতম। এই ফরমেটে প্রথমে আপনার যেকোনো একটি সিপিএ নেটওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর আপনার ওয়েবসাইটের টপিক অনুযায়ী অফার সিলেক্ট করতে হবে। অফারে এপ্রুভাল পেলে তারপর আপনি কাজ শুরু করতে পারেন। সিপিএ অফারে মূলত বিজ্ঞাপনদাতারা ট্রাফিকের প্রতিটা একশনে প্রকাশক হিসেবে আপনাকে পে করবে। এখন এই একশনটা হতে পারে কোনো কিছু ডাউনলোড, কোনো সাইটে সাইন আপ কিংবা কোনো সার্ভিস কিংবা প্রোডাক্ট কেনা! বিজ্ঞাপনদাতার রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী একশন কমপ্লিট হলেই আপনি টাকা পাবেন! আরেকটু সহজভাবে বললে- ধরুন একটি গেইম কোম্পানি চায় তাদের গেমের মার্কেটিং করবে। এখন মার্কেটার হিসেবে আপনাকে গেমটির লিংক দিয়ে দিলো এবং বলল, আপনার সাইট থেকে এই গেমটি প্রতিবার ডাউনলোডের জন্য আপনি ৫০ টাকা করে পাবেন! আপনি সুন্দর করে গেমটির একটি রিভিউ লিখে, সাথে গেমটির ডাউনলোড লিংক দিয়ে আপনার সাইটে পোস্ট দিয়ে দিলেন। এখন আপনার সাইটের ট্রাফিকরা যতবার গেমটি ডাউনলোড করতে থাকবে, প্রতিবার আপনি রেভিনিউ পেতে থাকবেন! এভাবে শুধু সিপিএ করেও অনেকে মাসে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করে থাকে!
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং:
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইনের আরও একটি জনপ্রিয় ইনকাম মাধ্যম! নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও প্রচুর আয় করা যায়। সিপিএ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মধ্যে ব্যাসিক পার্থক্য হলো, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনাকে অন্যের প্রোডাক্ট ডিরেক্ট বা স্ট্রেইট সেল দিতে হয়, মার্কেটপ্লেস আপনাকে বিক্রির উপর কমিশন দেয়। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলো অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েট। আপনার সাইটে আপনি অ্যামাজন মার্কেটপ্লেসের যেকোনো প্রোডাক্ট সেল করে অ্যাফিলিয়েট আর্নিং করতে পারেন! এ ছাড়াও আলীবাবাসহ আরও বেশকিছু মার্কেটপ্লেসের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম প্রচলিত আছে।
  • লোকাল অ্যাড:
লোকাল অ্যাড বা স্থানীয় বিজ্ঞাপন আপনার ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করার আরও একটি সহজ উপায়। আপনার সাইটি যদি বাংলা কনটেন্টের হয়ে থাকে এবং সাইটে প্রচুর বাংলাদেশি ট্রাফিক থাকে, তবে আপনি স্থানীয় উঠতি কোম্পানির বিজ্ঞাপন আপনার সাইটে শো করিয়ে আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার সেসব কোম্পানির কাছে গিয়ে সরাসরি ডিল করতে হবে। আপনি আপনার সাইটে তাদের ব্যানার লাগিয়ে কিংবা তাদের কোম্পানির রিভিউ পোস্ট লিখে, যেকোনো ভাবে তাদের কোম্পানিকে আপনার সাইটে হাইলাইট করে একটি ফিক্সড অ্যামাউন্টের টাকা নিতে পারেন!
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং:
আপনার সাইটে যদি হিউজ অ্যামাউন্টের ভিজিটর থাকে, তবে স্বভাবতই আপনার সাইটের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে অনেক অনেক ফলোয়ার থাকবে। এই ফলোয়ারগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি অন্য কোম্পানির জন্য মার্কেটিং করেও ইনকাম করতে পারবেন! যেমন- আপনার সাইটের ফেসবুক ফ্যানপেজে যদি লক্ষাধিক ফলোয়ার থাকে, তবে আপনি আপনার পেজে টাকার বিনিময়ে অন্য কোম্পানির পেজ বা সাইটকে প্রোমোট করতে পারেন! একইভাবে ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার সবখানেই মার্কেটিং করা যায়! আর ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন, ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন, ফেসবুক ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল এগুলোও অনেক জনপ্রিয় অনলাইন আয়ের মাধ্যম।
  • স্পন্সারশিপ:
আপনার ওয়েবসাইটে যদি বিশাল অঙ্কের ভিজিটর থাকে, তবে আপনি দেশি-বিদেশি যেকোনো কোম্পানির স্পন্সারশিপ থেকেও অনেক টাকা আয় করতে পারেন! এজন্য আপনাকে জাস্ট ওয়েবসাইটে ভ্যালুয়েবল কনটেন্ট দিয়ে ভিজিটরদের ইন্টারেস্ট বাড়াতে হবে। ইন্টারেস্ট তৈরী করতে পারলে ভিজিটর এমনিতেই বাড়বে। ভিজিটরের সংখ্যা হাই হয়ে গেলে আপনার বড় স্পন্সার পেতেও সমস্যা হবে না! হতে পারে স্পন্সাররাই আপনাকে খুঁজে নেবে। এক্ষেত্রে আয়মান সাদিক ভাইয়ের 10 মিনিট স্কুলের উদাহরণ টানা যেতে পারে! 10 মিনিট স্কুল এর অফিশিয়াল স্পন্সার মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি।
এই ছিল ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু মাধ্যম। এগুলো ছাড়াও অনেকে অনেক নিজস্ব পদ্ধতিতে ইনকাম জেনারেট করে। ক্রিয়েটিভিটি থাকলে আপনি নিজেই অনেক নতুন নতুন ওয়ে বের করে ফেলতে পারবেন!
আরও পড়ুন: ব্লগিং করে আয় করা কি আসলেই সম্ভব?

Blog Making Package: Get A Full Ready Made Website For You From Us! Contact Now!

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: