Home » ওয়ার্ডপ্রেস শিখি : পর্ব ০৩
ওয়ার্ডপ্রেস শিখি : পর্ব ০৩

ওয়ার্ডপ্রেস শিখি : পর্ব ০৩

প্রিয় পাঠক, ওয়ার্ডপ্রেস শিখির প্রথম দুই পর্বে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আজ শুরু করছি— ওয়ার্ডপ্রেস শিখি : পর্ব ০৩। আগের পর্বে, আমরা ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে সাইটের ড্যাশবোর্ডে লগিন করেছিলাম। এই পর্বে আমরা ড্যাশবোর্ডের মধ্যে কাজ করব। চলুন, শুরু করি।

ওয়ার্ডপ্রেস শিখি : পর্ব ০৩

থিম ইন্সটল

সাইটের ড্যাশবোর্ড আর ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড সেম জিনিস। কারণ, আমাদের তো ওয়ার্ডপ্রেস সাইটই। যাইহোক, ড্যাশবোর্ডে এসে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানসম্মত একটা থিম ইন্সটল করা। থিম হচ্ছে আপনার সাইটের ডিজাইন ও কনটেন্ট কীভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবেন সেই ব্যবস্থা। যত সুন্দর করে সাজাতে পারবেন, তত ভিউয়ার বাড়বে। অগোছালো জিনিস কেউই পছন্দ করে না। থিম দুই ধরনের পাওয়া যায়। একটা হচ্ছে ফ্রি থিম আর একটা হচ্ছে পেইড থিম । যেহেতু আমরা নতুন তাই ফ্রি থিমকেই কীভাবে সুন্দর করে সাজানো যায় সেটা দেখব। পেইড থিম আলাদা করে কিনে, ডাউনলোড করে, এরপর সাইটে আপ্লোড দিয়ে তারপর ইন্সটল করতে হয়। আর ফ্রি থিম ড্যাশবোর্ডের ভেতর ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি ডিরেক্টরি থেকে সরাসরি ইন্সটল করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস শিখি- পর্ব ৩

আমরা যে থিমটা ব্যহহার করব তার নাম colormag। ওপরের ছবির অপশনে গিয়ে add new এ ক্লিক করুন। সার্চ অপশন এ colormag লিখে সার্চ দিন। install and activate. এবার সাইটটা চেক করলেই দেখতে পাবেন আগের থেকে অন্য রকম একটা লুক আসছে।

ডেমো ইমপোর্ট

সাধারণত ফ্রি থিমে ডেমো থাকে না। তবে এই থিমটাতে ডেমো আছে তিনটি। আমাদের কষ্ট করে কোনো ডিজাইন করতে হবে না। আমরা শুধু কনটেন্ট লিখব। apperance থেকে about colormag এ ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন এখানে তিনটি ফ্রি ডেমো রয়েছে। যেটা পছন্দ হয় সেটাই আপনি ইমপোর্ট করে নিতে পারেন। ডেমো ইমপোর্ট হয়ে গেলেই দেখতে পাবেন সাইট একদম আলাদা লাগছে। এটাকেই আমরা আরও কাস্টমাইজ করে ফেলব।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন ‘প্লাগিন জিনিসটা কী?’, উত্তর হলো— আপনি ওয়েবসাইট বানিয়ে কত সহজে সেইটা মেইন্টেইন করতে পারেন, কত সুন্দরভাবে আপনি সাজাতে পারেন, সেইটাই আপনাকে করে দেয় প্লাগিন; আপনে যত প্রকার চিন্তা করতে পারেন যে আপনার ওয়েবসাইটে এইটা দরকার, ওইটা দরকার, তার সবরকম সমাধান আপনি পাবেন প্লাগিনে। এক এক প্লাগিনের কাজ এক এক রকম। কোনোটা ইউজ করা হয় ওয়েবসাইট খুব স্পিডি করতে, আবার কোনোটা ব্যবহার করা হয় রং-বেরংয়ের কন্টাক্ট ফর্ম বানাতে। ড্যাশবোর্ড থেকে যেভাবে থিম ইন্সটল করবেন, ঠিক তেমনি ভাবেই প্লাগিনও ইন্সটল করতে হবে। থিম সাইট ডিজাইনের মূল ভিত্তি হলে, প্লাগিনগুলো হলো সাইটকে রান করার মূল যন্ত্রপাতি।

থিম ও প্লাগিন ইন্সটল সম্পর্কে এই ভিডিয়োটি দেখে নিন—

গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন

. WordPress SEO by Yoast – এখনকার সময়ে যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্যই SEO খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। SEOর জন্য মেটা ডাটা লাগে, মেটা ডেসক্রিপশন লাগে, কিওয়ার্ড লাগে; এই প্লাগিন ইউজ করলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের এই সমস্ত ইনফরমেশন পাবেন এক ক্লিকেই। এসইওর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বেস্ট প্লাগিন হলো ইয়স্ট!

. W3 Total Cache – এই প্লাগিনের কাজ হলো, আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়ানো। ধরুন, আপনি কিছু জানতে গুগলে সার্চ করলেন, তথ্যটা জানতে সার্চ রেজাল্টের একটা পোস্টে ঢুকলেন, এখন সেটা ভালো করে খুলে লোড হতে লাগলো ৪০ সেকেন্ড+! নিশ্চয়ই ততক্ষণে আপনি ওয়েবসাইটটা দেখার আর পোস্টটা পড়ার আগ্রহই হারিয়ে ফেলবেন। এই কারণে ওয়েবসাইটের স্পিড খুবই ইম্পরট্যান্ট। এ ছাড়া এসইওর জন্যও সাইট স্পিড একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তো, এই ক্যাশ প্লাগিন দিয়ে মূলত ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়ানোর কাজটাই করা হয়।

. WP-DBManager – আপনি আজকে যে ওয়েবসাইট চালাচ্ছেন, সেটা কোনো কারণে হ্যাক হতেই পারে। বা ওয়েবসাইটের কোনো প্রবলেম হতেও পারে। সে ক্ষেত্রে কি আপনার আবার প্রথম থেকে সব বানানো লাগবে? মোটেও না, ইন্সটল করে নেন এই প্লাগিনটা, এটা প্রতিদিন আপনার ওয়েবসাইটের অটোমেটিক ব্যাকআপ রাখবে, আর ব্যাকআপ ফাইলটাও অটোম্যাটিক শেয়ার করবে আপনার গুগল ড্রাইভে; এর মানে ওয়েবসাইট পুরা নষ্ট হলেও প্রবলেম নাই, আপনার কাছে তো এক কপি থাকলই। সেটা যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় রিস্টোর করতে পারবেন। অনেকে এর বদলে UpdraftPlus প্লাগিনও ব্যবহার করে থাকে একই কাজে।

. Digg Digg – অনেকেই ব্লগ লেখেন, ব্লগ লেখার পরে একটা অপশন রাখতে চান যাতে সেই লেখাটা খুব সহজে ফেসবুক বা টুইটারে শেয়ার করা যায়, সেই জন্য আছে এই প্লাগিন। আপনি যদি আপনার সাইটে এই প্লাগিন্স ইন্সটল করে নেন তাহলে আপনার সমস্ত লেখার পর অটোম্যাটিক একটা অপশন আসবে শেয়ার করার জন্য। শুধু তাই না, আপনার লেখাটা কতবার শেয়ার হইছে সেইটাও জানিয়ে দেবে এই প্লাগিন।

. URL shortened – মাঝে মাঝেই দেখবেন, কিছু কিছু ওয়েব অ্যাড্রেস থাকে বিরাট বড়ো বড়ো, এখন আপনি যদি একটা পোস্ট লেখেন আর সেটার ওয়েব ঠিকানা বা URL যদি হয় এত্ত বড়ো, তাইলে সেটা দেখতেও বাজে দেখায়, আবার শেয়ারের জন্যও প্রবলেম। তাই এই প্রবলেম দূর করতে ইউজ করতে পারেন URL SHORTENED প্লাগিনটা। এই প্লাগিন ইউজ করলে আপনার সমস্ত URL কেটে ছোটো হয়ে যাবে, যেটা দেখতেও সুন্দর, শেয়ার করেও শান্তি।

প্রথম পর্ব পড়ুন: ওয়ার্ডপ্রেস শিখি : পর্ব ০১

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন: ওয়ার্ডপ্রেস শিখি : পর্ব ০২

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন: