ওয়ার্ডপ্রেস শিখি- পর্ব ৩

ওয়ার্ডপ্রেস শিখি- পর্ব ৩
 

ড্যাসবোর্ড এ এসে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানসম্মত একটা থিম দেয়া। থিম হচ্ছে আপনার কনটেন্ট কীভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবেন সেই ব্যবস্থা।যতো সুন্দর করে সাজাতে পারবেন ততো ভিউয়ার বাড়বে। অগোছালো জিজিস কেউই পছন্দ করেনা। থিম দুই ধরণের পাওয়া যায় । একটা হচ্ছে ফ্রি থিম আর একটা হচ্ছে পেইড থিম । যেহেতু আমরা নতুন তাই ফ্রি থিমকেই কীভাবে সুন্দর করে সাজানো যায় সেটা দেখবো।

ওয়ার্ডপ্রেস শিখি- পর্ব ৩

আমরা যে থিমটা ব্যহহার করবো তার নাম colormag . add new এ ক্লিক করুন। সার্চ অপশন এ colormag লিখে সার্চ দিন। install and activate. এবার সাট টা চেক করলেই দেখতে পাবেন আগের থেকে অন্য রকম একটা লুক আসছে।

ডেমো ইমপোর্ট

সাধারণত ফি থিমে ডেমো থাকেনা । তবে এই থিমটাতে ডেমো আছে তিনটি । আমাদের কষ্ট করে কোন ডিজাইন করতে হবেনা। আমরা শুধু কনটেন্ট লিখবো। apperance থেকে about colormag এ ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন এখানে তিনটি ফ্রি ডেমো রয়েছে। যেটা পছন্দ হয় সেইটা আপনি ইমপোর্ট করে নিতে পারেন।

ডেমো ইমপোর্ট হয়ে গেলেই দেখতে পাবেন সাইট একদম আলাদা লাগছে। এটাকেই আমরা কাস্টমাইজ করে ফেলবো।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন্স –

 এখন আপনে প্রশ্ন করতে পারেন ‘প্লাগিন্স জিনিসটা কি?’, উত্তর হইল – আপনে ওয়েবসাইট বানায়া কত সহজে সেইটা মেইন্টেইন করতে পারেন, কত সুন্দরভাবে আপনি সাজাইতে পারেন, সেইটাই আপনেরে করে দ্যায় প্লাগিন্স; আপনে যত প্রকার চিন্তা করতে পারেন যে আপনের ওয়েবসাইটে এইটা দরকার, ওইটা দরকার তার সবরকম সমাধান আপনে পাবেন প্লাগিন্সে। এক এক প্লাগিন্সের কাজ এক এক রকম। কোনটা ইউজ করা হয় ওয়েবসাইট খুব স্পিডি করতে, আবার কোনটা ব্যবহার করা হয় রঙ বেরঙ্গের কন্টাক্ট ফর্ম বানাইতে। ড্যাশবোর্ড থেকে যেভাবে থীম ইন্সটল করবেন ঠিক তেমনি ভাবেই প্লাগিন্সও ইন্সটল করতে হবে। ভিডিও ক্লিপসে পুরা জিনিসটাই খুব সহজে বুঝানোর ট্রাই করা হইছে। দেখে নিতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্লাগিন্স –

. WordPress SEO by Yoast – এখনকার সময়ে যে কোন ওয়েবসাইটের জন্যই SEO খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। SEO র জন্য মেটা ডাটা লাগে, মেটা ডেসক্রিপশন লাগে, কিওয়ার্ড লাগে; এই প্লাগিন্স ইউজ করলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের এই সমস্ত ইনফরমেশন পাবেন এক ক্লিকেই

. W3 Total Cache – এই প্লাগিন্সের কাজ হইল, আপনের ওয়েবসাইটের স্পীড বাড়ানো। ধরেন আপনে একটা ওয়েবসাইট সার্চ দিলেন, সেইটা ভালো কইরা খুলতে লাগে ৪০ সেকেন্ড, নিশ্চয়ই ততক্ষনে আপনে ওয়েবসাইট দ্যাখার আগ্রহই হারায় ফেলবেন। এই কারনে ওয়েবসাইটের স্পীড খুবই ইম্পরট্যান্ট। এই প্লাগিন্স দিয়ে মূলত ওয়েবসাইটের স্পীড বাড়ানোর কাজটাই করা হয়

. WP-DBManager – আপনি আজকে যে ওয়েবসাইট চালাইতেছেন, সেইটা কোন কারনে হ্যাক হইতেই পারে। বা ওয়েবসাইটের কোন প্রবলেম হইতেই পারে। সে ক্ষেত্রে কি আপনার আবার প্রথম থেকে সব বানানো লাগবে? মোটেও না, ইন্সটল করে নেন এই প্লাগিন্সটা, এইটা প্রতিদিন আপনার ওয়েবসাইটের অটোমেটিক ব্যাকআপ রাখবে, আর ব্যাকআপ ফাইলটাও অটোম্যাটিক শেয়ার করবে আপনার গুগল ড্রাইভে; এর মানে ওয়েবসাইট পুরা নষ্ট হইলেও প্রবলেম নাই, আপনার কাছে তো এক কপি থাকলোই

. Digg Digg – অনেকেই ব্লগ লেখেন, ব্লগ লেখার পরে একটা অপশন রাখতে চান যাতে সেই লেখাটা খুব সহজে ফেসবুক বা টুইটারে শেয়ার করা যায়, সেই জন্য এই আছে এই প্লাগিন্স। আপনি যদি আপনার সাইটে এই প্লাগিন্স ইন্সটল করে নেন তাহলে আপনার সমস্ত লেখার পর অটোম্যাটিক একটা অপশন আসবে শেয়ার করার জন্য। শুধু তাই না, আপনার লেখাটা কতবার শেয়ার হইছে সেইটাও জানায় দিবে এই প্লাগিন্স

. URL shortened – মাঝে মাঝেই দেখবেন, কিছু কিছু ওয়েব ঠিকানা থাকে বিরাট বড় বড়, এখন আপনি যদি একটা পোস্ট লেখেন আর সেইটার ওয়েব ঠিকানা বা URL যদি হয় এত্ত বড়, তাইলে সেইটা দেখতেও বাজে দ্যাখায়, আবার শেয়ারের জন্যও প্রবলেম। তাই এই প্রবলেম দূর করতে ইউজ করতে পারেন URL SHORTENED প্লাগিন্স। এই প্লাগিন্স ইউজ করলে আপনার সমস্ত URL কেটে ছোট হয়ে যাবে, যেইটা দেখতেও সুন্দর, শেয়ার করেও শান্তি।

পর্ব – ১ 

পর্ব – ২ 

Facebook Comments
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: