অ্যালিজা কার্সন : মঙ্গলের বুকে প্রথম মানবী হবেন যিনি!

অ্যালিজা কার্সন : মঙ্গলের বুকে প্রথম মানবী হবেন যিনি!

ছোট বেলায় কার্টুন দেখেনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সবাই কম বেশি কার্টুন দেখে। কিন্তু সেই কার্টুনকে সিরিয়াসলি নিয়ে কেউ মঙ্গল গ্রহে যাবার চিন্তা করবে এটা বিরল ঘটনা। ৩ বছর বয়সে একটি কার্টুন দেখে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে এক মেয়ে। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে তার বাবা তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তার আগ্রহ, তৃষ্ণা আর ডেডিকেশন দেখে মাত্র ১১ বছর বয়সে নাসা তাকে নিয়ে নেয় এবং ঘোষণা করে যে- সমস্ত অবস্থা অনুকূল হলে সে হবে ২০৩৩ সালে মঙ্গলে যাওয়া পৃথিবীর প্রথম মানুষ। তার বর্তমান বয়স ১৮ বছর। বলছি, অ্যালিজা কার্সন নামের স্বপ্নবাজ মেয়েটির কথা। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির নায়িকাদের মতো নিজেকে যে সঁপে দিয়েছে মঙ্গল গবেষণায়।

অ্যালিজা কার্সন : মঙ্গলের বুকে প্রথম মানবী

কথায় বলে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। তার বয়স থেকে তার স্বপ্ন ছাড়িয়ে গেছে কয়েক গুণ। অ্যালিজা ৯ বছর বয়স থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সে বলে আমি সেখানে যেতে চাই কারণ সেখানে কেউ যায়নি। আর আমি অন্যদের থেকে একদম আলাদা হব।

সে বিজ্ঞান বিষয়ে একসাথে তিনটি ভাষায়- স্পেনিশ, ফ্রান্স ও চীনা ভাষায় পড়ালেখা করছে। সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে নাসার তিনটি স্পেস ক্যাম্পে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সবচেয়ে কম বয়সে অ্যাডভান্সড স্পেস অ্যাকাডেমি থেকে স্নাতক শেষ করেছে।

অ্যালিজা জানে যে, সে হয়তো আর ফিরে আসবে না এই পৃথিবীতে, নিঃসঙ্গ মানুষ হিসেবে কোটি কোটি মাইল দূরের লোহার লালচে মরিচায় ঢাকা প্রচণ্ড শীতল নিষ্প্রাণ গ্রহের ম্রিয়মাণ নীল নক্ষত্রের নিচে হারিয়ে যাবে। একা হারিয়ে যাওয়া তার কাছে কত বড় আনন্দ! সেই আনন্দের কাছে পৃথিবীর এসব সাজানো সংসার, প্রেম, সন্তানাদি এসবের আনন্দ নির্বিঘ্নে বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে।

অ্যালিজা কার্সন আমাদের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। সে বলে, “always follow your dream and don’t let anyone take it from you.”

অ্যালিজা কার্সন
অ্যালিজা কার্সন

নাসা অ্যালিজাকে সকল প্রকার ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে কী খাবে, কী পরবে, কী করবে সকল কিছুর প্রশিক্ষণ চলছে। এমনকি কম অক্সিজেনে কীভাবে বেঁচে থাকা যায় সে প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন অ্যালিজা। সে নিজেও খুব ভালো করে জানে যেখানে যাচ্ছে সেখান থেকে আদৌও ফিরে আসতে পারবে কিনা তার কোনো গ্যারান্টি নেই। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারের এই সুযোগ সে কোনোভাবেই ছাড়তে চায় না। বরং সে আরও পরিশ্রম করে যাচ্ছে মঙ্গলে গিয়ে কম অক্সিজেন এবং অধিক ধূলোয় নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য। এমনও হতে পারে অ্যালিজা কার্সনের হাত ধরেই আমরা পৃথিবীর মানূষ মঙ্গলে পাড়ি জমাতে পারব।

নাসার এই প্রজেক্ট সম্পর্কে ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন: হাইপেশিয়া: গণিতের প্রথম মহীরুহ নারী এবং একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ইতিহাস!

পাঠকের মন্তব্য:
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: