Home » অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স : জীবন বাঁচানোর ওষুধ যখন মহাবিপর্যয়ের মুখে!
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স : জীবন বাঁচানোর ওষুধ যখন মহাবিপর্যয়ের মুখে!

কিছুদিন আগে এক গ্রুপে দেখি সেফ-৩ ঠান্ডার ওষুধ হিসেবে খাওয়ার সাজেশন দিচ্ছে। সে নাকি তার বাচ্চার ঠান্ডা লাগলেই সেফ-৩ খাওয়ায়, খুবই ভালো কাজ করে। তারা জানেও না তারা তো নিজের ক্ষতি করছেই সাথে সাথে সবার ক্ষতি করছে। তারা কি আদৌও জানে এটা অ্যান্টিবায়োটিক। সবার ধারণা মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হচ্ছে। আসলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী? কেন জীবন বাঁচানোর ওষুধ মানুষের জন্য মারণঘাতী হয়ে উঠছে? আজকের পোস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানবো!

অ্যান্টিবায়োটিক কী?

অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে “selective toxicity”। অর্থাৎ শুধু ব্যাক্টেরিয়ার জন্য বিষাক্ত/ক্ষতিকর৷ আরেকটু গভীরে ব্যাখা করা যাক। অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাক্টেরিয়ার ওপর কাজ করবে। উদাহরণ দিয়ে বুঝি- টার্গেট/site of action এ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে। penicillin, cephalosporin, vancomycin, carbapenem (imipenem, meropenem etc) এরা cell wall এর ওপর! আমাদের শরীরে কি সেল ওয়াল আছে? না, নাই! তাহলে এগুলো আমাদের শরীরে কাজ করে না! tetracyclin, aminoglycosides কাজ করে 30s এবং macrolides (azithromycin), clindamycin, linezolid, streptogramin এরা 50s ইউনিট এর ওপর৷ ব্যাক্টেরিয়ার রাইবোসোম 70s যা ভাঙলে 30s ও 50s পাওয়া যায়। মানুুষ, গরু, ফাংগাস এসব ইউক্যারিয়টদের রাইবোসোম 80s যা ভাংলে পাওয়া যায় 40s ও 60s। সুতরাং এগুলোও মানুষের ওপর কাজ করার সুযোগ নেই। অর্থাৎ কোনো মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয় না, হয় তার শরীরে যে ব্যাকটেরিয়া আছে সেগুলো। আমাদের দেশে হরহামেশাই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া হয়। আবার চিকিৎসক পরামর্শ দিলেও সেই অনুযায়ী কোর্স কমপ্লিট করা হয় না। আবার অনেক চিকিৎসক অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। এসব কারণে এই মারণঘাতী সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কীভাবে হয়? 

স্বাভাবিকভাবেই আমাদের শরীরে অনেক ব্যাকটেরিয়া থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় এরা কোনো রোগের কারণ হয় না। এখন আপনার ভাইরাল কোনো রোগ হলো আর আপনি ভাইরাল রোগে অপ্রয়োজনীয় একটি অ্যান্টিবায়োটিক খেলেন। আবার কোর্সও কমপ্লিট করলেন না। আপনি কিছুদিন পর সুস্থ হলেন ঠিকই কিন্তু ধরে নিন আপনার শরীরে কোনো এক ব্যাক্টেরিয়া মিউটেশন ঘটিয়ে ওই ওষুধকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা পেয়ে গেল। এখন কিছুদিন পর কোনো কারণে আপনার যদি ইমিউনিটি কমে যায়; যেমন ধরুন- পরীক্ষার অনেক মানসিক চাপে বা ডায়াবেটিস এর কারণে তখন সেই চুপচাপ টিকে থাকা ব্যাক্টেরিয়াই বংশবৃদ্ধি করে আপনাকে রোগে ফেলতে পারে। তখন চিকিৎসক যদি সেই অ্যান্টিবায়োটিক দেন, তখন সেটা আর কাজ করবে না। অনুরূপভাবে ধরু,ন এই ব্যাক্টেরিয়া আপনার শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে গেল, তাহলে সেই ব্যক্তি পূর্বে অ্যান্টিবায়োটিক না খেলেও সেই অ্যান্টিবায়োটিক তার শরীরে কাজ করবে না।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স

আপনি যে ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তা কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তা জানার জন্য কালচার এবং সেন্সিভিটি বা জিন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। যেমন ধরুন- আপনি যক্ষ্মার রোগী। সেক্ষেত্রে আপনার থেকে কফ নিয়ে সেই কফে উপস্থিত ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে বিভিন্ন খাদ্য দিয়ে চাষ করা হয় যাতে এরা সংখ্যায় অনেক বৃদ্ধি পায়। এরপর সেখানে [যেটাকে মিডিয়া বলে] বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে দেখা হয় কোনগুলো কাজ করছে আর কোনগুলো বেকার।

ওপরে যে গল্পটি বললাম এবার সেখানে ফিরে আসি। এবার সেই বাচ্চার কথা চিন্তা করুন। সেফ-৩ হচ্ছে সেফিক্সিম। সেফিক্সিম  হলো তৃতীয় প্রজন্মের একটি সেফালোসপরিন অ্যান্টিবায়োটিক। এবার ওই বাচ্চার শরীরের ব্যকটেরিয়া তার সাথে কেমন আচরণ করবে উপলব্ধি করতে পারছেন? যত্রতত্র ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। আমাদের শরীরে এমনিতেই ইমিউনিটি ক্ষমতা আছে। যদি ভাইরাসের কারণে জ্বর হয় সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক তেমন ভূমিকা রাখে না। সুতরাং বুঝে শুনে ওষুধ নিন।

আরও পড়ুন: হ্যালুসিনেশন আর ইলিউশন এই দুটোর পার্থক্য কী?

সোর্স: উইকিপিডিয়া

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন: